একাধিকবার শারীরিকভাবে আঘাতের শিকার হয়েছেন পরীমনি, এমনটাই ফেসবুকে জানিয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী।
রবিবার বিকেলে ফেসবুক হ্যান্ডেলে দুজনের আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে এসব বলেন পরীমনি।
পরীমনি বলেন, ‘একটা সম্পর্কে পুরোপুরি সিরিয়াস বা খুব করে না চাইলে একটা মেয়ে, বাচ্চা নেয়ার মতো এত বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে না কখনোই। আমার জীবনের সবটুকু চেষ্টা যখন এই সম্পর্কটাকে ঠিকঠাক টিকিয়ে রাখা তখনই আমাকে পেয়ে বসা হলো।
যেন, শত কোটি বার যা ইচ্ছে তাই করলেও সব শেষে ওই যে আমি মানিয়ে নেই এটা রিতিমতো দারুণ এক সাংসারিক সূত্র হয়ে দাঁড়ালো। ’
গায়ে হাত তোলার বিষয়টি উল্লেখ করে অভিনেত্রী বলেন,‘আমি জোর দিয়ে বলতে পারি আমাদের এই সম্পর্ক এত দিন আমার এফোর্টে টিকে ছিলো শুধু। কিন্তু বারবার গায়ে হাত তোলা পর্যায়ে পৌছালে কোনও সম্পর্কই আর সম্পর্ক থাকেনা। স্রেফ বিষ্ঠা হয়ে যায়। ’
দুজন পৃথক হয়ে যাবেন জানিয়ে লিখলেন, ‘রাজ্যের দিকে তাকিয়ে বার বার সব ভুলে যাই। সব ঠিক করার জন্যে পরে থাকি। কিন্তু তাতে কি আসলেই আমার বাচ্চা ভালো থাকবে! না। একটা অসুস্থ সম্পর্ক এত কাছে থেকে দেখে দেখে ও বড় হতে পারে না। তাই আমি, রাজ্য এবং রাজের মঙ্গল এর জন্যেই আলাদা হয়ে গেলাম। অনেক কথাই গোপন রাখছেন জানিয়ে পরীমনি বলেন, ‘রাজ এখন শুধু আমার প্রাক্তন’ই না,আমার ছেলের বাবাও। তাই রাজ্যের বাবার সম্মান রাখতে পাবলিকলি আর বাকি কিছু বলছি না আমি। তবে আমার উপর তার আর তার পরিবারের কোনও অসুস্থ আচরণ বা হার্মফুল কিছু করার চেষ্টা করলে আমি কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো। ’
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে পরীমনি বলেন, ‘সম্মানিত গণমাধ্যমকর্মী যারা রয়েছেন আপনারা নিশ্চই আমার মানসিক অবস্থা বুঝতে পারবেন আশা করছি। আমাকে একটু সময় দিন। শারীরিক ভাবেও আমি বিধ্বস্ত। রাজ্য তার বাবা মাকে একসাথে নিয়ে বড় হতে পারলো না এর থেকে কষ্টের আর কি হতে পারে আমার কাছে। ’
চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি সন্তানসম্ভবা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর পরীমনি জানান, রাজকে তিনি গোপনে ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর বিয়ে করেছেন। এর পর চলতি বছর ২১ জানুয়ারি হয় গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান এবং ২২ জানুয়ারি দুই পরিবারের সদস্যের উপস্থিতিতে ১০১ টাকার দেনমোহরে ঘরোয়া আয়োজনে তাদের আবার বিয়ে হয়। ১০ আগস্ট তাদের সংসারে আসে এক পুত্রসন্তান। সন্তানের নাম রেখেছেন শাহীম মুহাম্মদ রাজ্য। পরীর এটি তৃতীয় বিয়ে।





