সামাজিক উত্তরণে নবীজি (সা.)-এর কর্মপন্থা

মহানবী (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পর তিনি সামাজিক উত্তরণকে গুরুত্ব দেন। বিশেষত মক্কা থেকে যে বিপুলসংখ্যক মুহাজির মদিনায় উপস্থিত হয়েছিলেন, তাদের কারণে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সামাজিক সংকট তৈরি হতে পারেনি। মহানবী (সা.) মাতৃভূমি, আত্মীয়-স্বজন ও সহায়-সম্পদ ছেড়ে আসায় মুহাজিরদের ভেতর যে মানসিক বিস্বাদ তৈরি হয়েছিল তা দূর করতে তিনি আনসার ও মুহাজির সম্প্রদায়ের মধ্যে ‘উখুওয়াত’ (ভ্রাতৃবন্ধন) স্থাপন করেন। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন, ‘সাহাবিদের মধ্যে ভ্রাতৃবন্ধন স্থাপনের উদ্দেশ্য ছিল, যেন নতুন পরিবেশে আসার অস্থিরতা, পরিবার-পরিজন ছেড়ে আসার কষ্ট দূর হয় এবং পরস্পরের মাধ্যমে মনোবল বৃদ্ধি পায়।’ (ফাতহুল বারি শরহুল বুখারি : ১৬৭/৪)

পবিত্র কোরআনে সেই সমাজের একটি চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, ‘এই সম্পদ অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘর-বাড়ি ও সম্পত্তি থেকে উত্খাত হয়েছে। তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অনুগ্রহ কামনা করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে সাহায্য করে। তারাই সত্যাশ্রয়ী। আর তাদের জন্যও, যারা মুহাজিরদের আগমনের আগে এই নগরে বসবাস করেছে এবং ঈমান এনেছে, তারা মুহাজিরদের ভালোবাসে এবং মুহাজিরদের যা দেওয়া হয়েছে তার জন্য অন্তরে কোনো আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না। অভাবগ্রস্ত হওয়ার পরও তারা তাদের নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দেয়। যাদের অন্তরের কার্পণ্য থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে তারাই সফলকাম। (সুরা : হাশর, আয়াত : ৮-৯)

মুসলিম ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মহানবী (সা.) আরব সমাজের প্রচলিত ‘হালিফ’ (গোত্রীয় চুক্তি) ব্যবস্থার বিপরীতে নতুন ব্যবস্থা উপহার দেন। মহানবী (সা.) ‘হালিফ’ ব্যবস্থা বিলোপ না করলেও তাতে উল্লেখযোগ্য সংস্কার করেন। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রা.) বলেন, ‘হালফ শব্দের অর্থ জাহেলি ও ইসলামের যুগে একই ছিল। (সিরাতে ইবনে হিশাম : ২/৩৭৩)। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্বে হিজরত-পরবর্তী সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা দূর হয়ে শক্তিশালী ইসলামী রাষ্ট্রের যাত্রা শুরু হয়।