১০ ডিসেম্বরের পর খালেদা জিয়ার কথায় দেশ চলবে’- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমানের এই বক্তব্য ও পরবর্তী কিছু কর্মকাণ্ডে তাকে নিয়ে দলটিতে এক প্রকার ‘অস্বস্তি’ তৈরি হয়েছে। তাকে মহানগর কমিটিতে না রাখার বিষয়েও মত দিয়েছেন অনেকে।
গত বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানকে নিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়।
সূত্রমতে, বৈঠকে আমানউল্লাহ আমানের ওই বক্তব্যের বিষয়টি ওঠে আসে। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, আমানউল্লাহ আমানের ওই বক্তব্যের কারণে ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশের প্রস্তুতি মনোপূত হয়নি। তার ওই বক্তব্যের পর সরকার বিএনপির ওপর চড়াও হয়। এর ফলে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ সিনিয়র নেতারা গ্রেফতার হন। প্রশাসনের ধরপাকড়ে আন্দোলন স্তিমিত হয়।
বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে এক নেতা বলেন, গ্রেফতার হয়েছি কিনা তখনও জানতাম না। ডিবি অফিসে পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বললাম, ‘অন্যান্য বিভাগীয় গণসমাবেশের মতোই এটা একটি গণসমাবেশ।’ কিন্তু ডিবি পুলিশ কোনো অবস্থায় তা বিশ্বাস করতে চায়নি। ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় মুখ ফসকে একটি বক্তব্য দিয়েছিলাম, তখন দল আমার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল। তাহলে আমানের কাছে কেন ব্যাখ্যা চাওয়া হবে না? এরপর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিষয়টি দলের মহাসচিবকে দেখতে বলেন।
বৈঠকে ওই নেতা আরও বলেন, সরকারের লোকজন সঙ্গে নিয়ে তো আর সরকারবিরোধী আন্দোলন করা যাবে না। যার কথাকে কেন্দ্র করে সবাই গ্রেফতার হয়েছেন, তাকেই আবার কারাগারে নেওয়ার আগে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সূত্র আরও জানায়, বৈঠকে ২০ দলীয় জোট ভেঙে দেওয়া এবং ১৫ সংগঠনের সমন্বয়ে জোট করা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। আমান উল্লাহ আমানের তত্ত্বাবধানে এই জোট গঠন হয়েছে বলে জানা যায়। এ সময় স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, আসলে এগুলো কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এ জন্যই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ৫৪ দলের ৫৪টি ঘোড়ার ডিম পাড়ার মতো মন্তব্য করার সুযোগ পেয়েছেন।
এসময় একজন নেতা জানতে চান, আমানকে দলের অথরিটি কে দিয়েছে? এ সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও বলেন, তাকেও এ জোট গঠনের বিষয়ে অবহিত করা হয়নি।
সূত্রমতে, স্থায়ী কমিটির এ বৈঠকের আগে বুধবার নয়াপল্টনে গণঅবস্থান কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান সভাপতিত্ব করেননি। তাকে গণঅবস্থান কর্মসূচি পরিচালনায় থাকতে বলা হয়েছিল। এরপর থেকে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ওই কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগরের উত্তরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আমানউল্লাহ আমানকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন নেতা ও একজন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকা মহানগরের সমস্যা সমাধান এবং দলের সন্দেহভাজন নেতাদের দূরে রেখে আন্দোলনের পরিকল্পনা করলেই সফলতা আসবে। ২০১৪ সালের আন্দোলন ঢাকার নেতাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। এবার সেই ঢাকাকে ঠিক করেই আন্দোলনে যেতে হবে।





