প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ৪০ শতাংশ লোকবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ফলে কার্যক্রম পরিচালনা করতে নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী দিনে রাজস্ব বাড়াতে লোকবল নিয়োগ দিয়ে তাদের নিবিড়ভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং অবকাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। এ ছাড়া লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।
গতকাল রবিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী রাজস্ব সম্মেলনের প্রথম দিন ‘জাতীয় উন্নয়নে ভ্যাটের ভূমিকা : বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কাস্টমস এক্সাইজ ও ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেট কমিশনার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে। এ জন্য আমাদের প্রচুর বিনিয়োগ প্রয়োজন। আমাদের সমমনা যেসব দেশ আছে, তাদের চেয়ে বাংলাদেশ রাজস্ব প্রশাসনে সবচেয়ে কম খরচ করে। ভারত আমাদের চেয়ে রাজস্ব আহরণে তিন গুণ খরচ করে। রাজস্ব বাড়াতে প্রয়োজন জনবল নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণ। এর বিকল্প নেই। আমরা মাত্র ৪০ শতাংশ লোক দিয়ে কাজ করছি। তাহলে ৬০ শতাংশ লোকই নেই। এত কম লোক দিয়ে আসলে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব না। এটা বাস্তবতা। তার পরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের চেষ্টার অবশ্যই ঘাটতি আছে, থাকবে। কিন্তু মিনিমাম জনবল দিতে হবে। আমাদের এখানে কেউ ছুটি নিতে চাইলে বারবার চিন্তা করি সেখানে কে থাকবে। কে কাজ করবে। একটা ছেলে ভার্সিটি পাস করে আসার পর প্রশিক্ষণ ছাড়াই তাঁকে কাজে নামিয়ে দিই। এতে সে কী করতে পারবে? এ জন্য নিবিড়ভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।’
একই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আগারগাঁওয়ে নতুন ভবনের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘সারা দেশেই আপনাদের (এনবিআর) নতুন অফিস দরকার। আপনারা তো অনেক টাকা বাঁচিয়েছেন। নতুন ভবন তৈরিতে ৪৫১ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। সেখান থেকে ৪১২ কোটি টাকায় সম্পন্ন করেছেন। প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা বাঁচিয়েছেন। সাধারণত এটা দেখা যায় না। আমি খুব আশাবাদী স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনাদের কাজ আমাদের এগিয়ে নেবে। ২০৩০, ২০৩১, ২০৪১ এবং চূড়ান্তভাবে ২১০০ সালের প্ল্যান করেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালে কাস্টমস ডিউটির ওপর চাপ পড়বে। সমস্যা আসতে শুরু করবে। তখন টাকাটা তেমন আসবে না। আপনাদের ভ্যাটের পরিধি ও ইনকাম ট্যাক্সে নজর দিতে হবে। এর করজাল বিস্তৃত করতে হবে। এখন আয়কর নিতে গেলেই মানুষের অপছন্দের কারণ হয়ে উঠবেন আপনারা। ট্যাক্স দিতে চায় না কেউ, সেখানেও আপনাদের ইতিবাচক ভূমিকা নিতে হবে।’
এনবিআরের সব কার্যক্রম নতুন ভবনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে আগারগাঁওয়ে স্থাপন করা নতুন ভবনে এখন থেকে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ জন্য গতকাল নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১২ তলা ভবনটি দুই একর জমির ওপর স্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক এই ভবনটি কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, যা নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে ৪১২ কোটি টাকা।
রাজস্ব সম্মেলনের প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সভাপতিত্ব করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন। এ ছাড়া এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।





