প্রতিযোগীদের চেয়ে ভালো অবস্থান পারিবারিক ব্যবসার।

বিশ্বজুড়ে সমকক্ষ অন্যদের চেয়ে ভালো করছে পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। গত ১৫ বছরে পারিবারিক ব্যবসায় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে কম্পানির মূল্য, কর্মী যোগাযোগ ও ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সঙ্গে যুক্ত পারিবারিক ব্যবসা তাদের সমকক্ষ অন্যদের চেয়ে ভালো করছে বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক সূচকগুলোতে।

গত মঙ্গলবার বিশ্বখ্যাত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারসের (পিডাব্লিউসি) প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক পারিবারিক ব্যবসায় জরিপ ২০২৩’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। পিডাব্লিউসি দুই বছর পর পর এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ‘ট্রান্সফরম টু বিল্ড ট্রাস্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয় বিশ্বের ৮২ দেশের দুই হাজার পারিবারিক ব্যবসার ওপর জরিপ করে। এই জরিপ পরিচালিত হয় ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। এতে দেখা যায়, সর্বশেষ অর্থবছরে বিশ্বজুড়ে ৪৩ শতাংশ পারিবারিক ব্যবসায় দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি এসেছে, যা ২০২১ সালের চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি।

উল্লেখযোগ্যভাবে যেসব পারিবারিক ব্যবসা গত অর্থবছরে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, তাদের ৭৩ শতাংশই স্পষ্ট পারিবারিক মূল্যবোধ ও ব্যবসার একটি সম্মত উদ্দেশ্য ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। এবারের জরিপে দেখা গেছে, টেকসই ব্যবসা অনুশীলনে পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশ বাড়ছে এবং তারা নেতৃত্বের সারিতে রয়েছে; এমনকি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে যাদের উদ্দেশ্য যুক্ত—এসব পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশই গত অর্থবছরে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। দেখা গেছে, কভিড-১৯ মহামারি-পরবর্তী পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালে যেসব পারিবারিক ব্যবসা ভালো পারফরম্যান্স করেছে, তাদের ৫৩ শতাংশই গত বছর কর্মীদের প্রণোদনা দিয়েছে। ৫২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের বোর্ড কমিটিতে বৈচিত্র্য (পরিবারের বাইরের লোক) আছে এবং ৪৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল সক্ষমতা শক্তিশালী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে প্রতিকূল সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেও ৩৭ শতাংশের বেশি পারিবারিক ব্যবসা ডিজিটাল সক্ষমতা, নতুন পণ্য ও সেবা আনার চেয়ে মূল অগ্রাধিকার হিসেবে তারা ব্যাপকভাবে প্রতিশ্রুতিশীল মূল ব্যবসা সুরক্ষা, খরচ মেটানো ও টিকে থাকায়। মাত্র ৩৬ শতাংশ পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বলেছে, তারা প্রতিভা আকর্ষণ ও ধরে রাখায় মনোনিবেশ করছে। যদিও তারা জানে যে কর্মীদের আস্থা ব্যাবসায়িক সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭১ শতাংশ পারিবারিক ব্যবসা তাদের সর্বশেষ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি করেছে। এর মধ্যে ৪৩ শতাংশ দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি করেছে এবং ৭৭ শতাংশ আশা করছে, আগামী দুই বছরও তারা প্রবৃদ্ধি করবে। যেসব প্রতিষ্ঠান টেকসই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, গ্রাহকদের আস্থা তাদের ওপর অন্যদের চেয়ে বেশি। যেসব পারিবারিক ব্যবসার বোর্ডে বৈচিত্র্য রয়েছে তাদের ৪৬ শতাংশ যাদের নেই তাদের চেয়ে এগিয়ে। দুই-তৃতীয়াংশ পারিবারিক ব্যবসা বলছে কর্মীর আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যদিও ৩৬ শতাংশ বলছে, তারা মেধাবী আকর্ষণ ও ধরে রাখায় গুরুত্ব দিচ্ছে।

পিডাব্লিউসির বৈশ্বিক ও ইএমইএ পারিবারিক ব্যবসার নেতা পেটের ইংলিক্স বলেন, ‘পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো দেখাচ্ছে যে তারা পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে এগিয়ে যেতে পারে। তারা ডিজিটাল যোগাযোগ ও বৈচিত্র্যময় বোর্ড গঠনের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করতে পারে, এমনকি যেকোনো চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতেও। এই তিন সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার মূল্য প্রদানে গুরুত্ব দিতে হবে শুধু গ্রাহকদের নয়, সমাজকেও। রূপান্তর, লক্ষ্য ও উত্তরাধিকার শুধু কথাবার্তা নয়, একটি অন্যটির সঙ্গে জড়িত।’