বাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক আলমগীরের জন্মদিন আজ সোমবার। জীবনের ৭৩টি বসন্ত পার করলেন গুণী এই নায়ক। ১৯৫০ সালের আজকের এদিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বেড়ে ওঠা ঢাকার তেজগাঁওয়ে। পুরো নাম মহিউদ্দিন আহমেদ আলমগীর হলেও দেশবাসীর কাছে তিনি আলমগীর নামেই পরিচিত।
বিশেষ এদিনে আত্মীয় স্বজন, সহশিল্পী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন তিনি। পাশাপাশি এই অভিনেতাকে নিয়ে তার ভক্ত-দর্শকরাও শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন নেটদুনিয়ায়। পছন্দের এই মানুষটিকে ঘিরে ফেলার অতীতের কথা স্মরণ করলেন কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। দীর্ঘ এক ফেসবুক পোস্টে জন্মদিনের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি তিনি লিখেছেন- ক্লাস থ্রি’তে কুমিল্লা গুলবাগিচা স্কুলে ভর্তি হয়েই স্বাধীনতার স্বাদ পেয়ে গেলাম। এই স্বাধীনতা মিশনারী স্কুলে ছিল না। বন্ধু রফিক আর শহীদ ছিল সিনেমা দেখার পার্টনার। খটখটা দুপুরে বাসার বাইরে থেকে হাততালি দিলেই ব্যালকনির পাইপ বেয়ে নীচে নেমে সোজা চলে যেতাম সিনেমা হলে। লিবার্টি, রুপালী, মধুমিতা, দীপিকা আর রুপকথায় ছিল সিনেমা দেখার মিশন। থার্ডক্লাসে একটাকা বিশ পয়সায় টিকেটে দেখতাম শিহরণ জাগানো সব সিনেমা। জিঞ্জির ‘দস্যুরানী’, ‘গুন্ডা’, ‘লাইলী মজনু’, ‘কাপুরুষ’, ‘কসাই’, লুটেরা মাস্তান, ‘ভাত দে’, ‘রজনীগন্ধা’ ইত্যাদি সব বই ভাজা ভাজা করে ফেলেছি।
মূলত জিঞ্জির সিনেমাটি দিয়েই ঢাকাই ছবির মহাতারকা পরম শ্রদ্ধেয় আলমগীর স্যারকে প্রথম দেখা। উনার ফিল্মি ক্যারিয়ার নিয়ে নতুনভাবে পণ্ডিতি করার কিছু নেই। অভিনেতা, প্রযোজক হিসাবে সফল একজন মানুষ। স্যারের গানের কন্ঠও দারুন।
ছোটবেলা থেকেই কদমবুচি (পায়ে ধরে সালাম) কালচারে বড় হয়েছি। আমার বড় মামা এই সৌজন্যতার ঘোর বিরোধী। তিনি বলেন আস সালামু আলাইকুম’ই যথেষ্ট। আল্লাহ ছাড়া কারো সামনে মাথা নত করা যাবে না। কিছু জায়গায় পুরনো ট্রেন্ড বজায় রাখতে হয়, তখন হাঁটুগেড়ে বসে মাথা উঁচু করেই পায়ে ধরে সালাম করি। আলমগীর স্যারকে জীবনে দু’বার সালাম করতে গিয়েছি, তিনি দুবারই বলেছেন, ‘আমি এভাবে সালাম নেই না।’ স্কুলে স্যার আপাদের হাতে বেত থাকার কারনে উপুড় হয়ে সালামের মত ভুল করতে যেতাম না। সালামের এই মেথডটা আমার ভালো লেগেছে, আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে মাথা নত ভুলেও করা যাবে না।
উত্তেজিত হয়ে কেউ আমাকে সালাম করতে আসলে বুকে জড়িয়ে নেই, তাকে বলি পায়ে ধরে সালামের দিন আর নাই। আলমগীর স্যারের মতো স্মার্ট শিক্ষিত ব্যক্তিত্ববান অভিনেতা বাংলা সিনেমার অহংকার। পর্দায় দেখা মানুষটার সঙ্গে কথা বলার সময় ভিতরে কিছুটা নিম্নচাপ চলছিল। অথচ তিনি অত্যন্ত সাবলীলভাবেই আমাকে গ্রহন করেছেন, কথা বলেছেন। উনার কথপোকথনে উন্নত রুচিবোধ ঠিকরে প্রকাশ পায় সবসময়।
কুমিল্লার সিনেমা হলগুলো বিলুপ্ত হয়েছে আগেই, বেঁচে আছে মেমোরিজ। থার্ডক্লাসে সিনেমা দেখা সেই আসিফ আকবরও শোবিজে নিজের মোটামুটি একটা অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে। এখন পর্দায় দেখা স্বপ্নের মানুষদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় আর পুইং করে ফ্ল্যাশব্যাকে চলে যাই। ৩০ এপ্রিল কুয়ালালামপুর চেরাস স্টেডিয়ামে ‘হ্যালো সুপারস্টার’ অ্যাপের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিবেবে শ্রদ্ধেয় আলমগীর স্যার উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি দিয়েছেন। প্রিয় রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের উৎসাহিত করতে আসবেন তিনি। আজ আমাদের বাংলা সিনেমার মহাতারকা আলমগীর স্যারের জন্মদিন। শুভ জন্মদিন স্যার, অশেষ শ্রদ্ধা রইল, আপনার সুস্বাস্থ্য আর দীর্ঘায়ু কামনা করি সবসময়।’





