আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নে সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র চলছে। বিএনপি ও তাদের দোসররা দেশে-বিদেশে এই ষড়যন্ত্র করছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।
জাতীয় সংসদের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থাপিত প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে গতকাল শনিবার এ ধরনের কথা বলেন তাঁরা। প্রথমে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পরে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
সাবেক গণপরিষদ সদস্য ও প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, বঙ্গবন্ধুই প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেয়েছিলেন। তাঁর আগে অনেক নেতা ছিলেন, তাঁরা কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। বাংলাদেশের মানুষের পুরাপুরি মুক্তি চাননি। তাঁরা ক্ষমতায় যেতে চেয়েছেন আর বঙ্গবন্ধু একমাত্র নেতা, যিনি জীবন দিয়ে স্বাধীনতা দিয়ে গেলেন। ইমাজ উদ্দিন বলেন, ‘এত কিছু কাজ করার পরও যদি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পক্ষে ক্যানভাস করতে হয়, তাহলে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যে দুর্ভোগ আছে।’
বিএনপি-জামায়াতসহ সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহবান জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান। তিনি বলেন, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন আছে। তার অধীন নির্বাচন হবে। রাষ্ট্র চলবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসতে হবে। তিনি বলেন, এখন বিএনপি বাকস্বাধীনতার কথা বলছে, গণতন্ত্রের কথা বলছে। কিন্তু ২০১৪-১৫ সালে তারা গণতন্ত্রের জিকির তুলে নির্বাচন বানচাল করার জন্য অগ্নিসন্ত্রাস করে। শত শত মানুষকে পুড়িয়ে-কুপিয়ে মেরেছিল। তিনি আরো বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যারা বঙ্গবন্ধুকে প্রত্যক্ষভাবে হত্যা করেছিল তাদের এই সংসদে এনে বসিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি তাদের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছেলেন, যাদের হাত বঙ্গবন্ধুর রক্তে রঞ্জিত। বিএনপি একইভাবে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের এই সংসদে এনে পবিত্র সংসদকে অপবিত্র-কলুষিত করেছিল।’
জাতীয় পার্টির সদস্য আনিসুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে হবে। সব দলকে নির্বাচনে আনা সরকারের দায়িত্ব নয়, দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে, আস্থা তৈরি করতে হবে। সে সহায়তা সরকারকে দিতে হবে। সেটাই সরকারের দায়িত্ব। সেটি করার পর কেউ নির্বাচনে না এলে কারো কিছু বলার নেই। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদকে সত্যিকার অর্থে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু করতে চাইলে সংসদে মানুষের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এই আলোচনা না হলে সংসদের বাইরের যে আলোচনা সেটাই হবে কেন্দ্রবিন্দু, পত্রিকার কথাবার্তাই প্রাধান্য পাবে। তিনি সংসদীয় কমিটিগুলোকে আরো কার্যকর করার পরামর্শ দেন।





