তীব্র খরায় ঝরে পড়ছে আমের গুটি, শঙ্কায় চাষিরা

দেশে সপ্তাহব্যাপী তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরা চলছে। এতে নওগাঁয় ঝরে পড়ছে আমের গুটি। এর সঙ্গে ধানের শীষও নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষক। জেলার কৃষি বিভাগ বলছে, পর্যাপ্ত পানির অভাবে আমের গুটি ঝরে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এই তাপমাত্রায় জেলায় আম এবং ধানের ফলন নষ্ট হওয়ার অতটা আশঙ্কা নেই।

এ বছর নওগাঁয় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে, যা গতবছরের তুলনায় ৫২৫ হেক্টর বেশি। প্রতি হেক্টর জমিতে ১২ দশমিক ৫০ টন হিসেবে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৫ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর জেলায় এ বছর ১ লাখ ৯০ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।

দেশের সীমন্তবর্তী নওগাঁ জেলা উত্তরের শস্যভাণ্ডার নামে পরিচিত। এ জেলায় প্রতি বছর আম এবং ধান উৎপাদনের জন্য দেশের শীর্ষ স্থান অবস্থান করে আসছে। গত কয়েক দিনের তাপদাহে জেলার আম চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। খরায় আমের গুটি ঝরে পড়ছে। এতে আমচাষিরা দুশ্চিন্তায় সময় পার করছে।

চাষিরা জানিয়েছে, প্রথমদিকে আমগাছগুলোতে খুব ভালো মুকুল এসেছিল। সেইসঙ্গে গাছে ভালো আমের দেখাও মিলেছিল। কিন্তু গত কয়েক দিনের তীব্র খরায় গাছ থেকে গুটি ঝরে পড়ছে।

এদিকে, ধান চাষিরা বলছে, তীব্র গরমে ধানে চিটা ধরা শুরু করেছে। ধানের শীষ এবং পাতা মরে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত পানি ব্যবহার করেও গরমে ধানের শীষ মরে যাচ্ছে।

তবে জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, বর্তমান তাপমাত্রায় আম বা ধানের ক্ষতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই কৃষকের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। অতিরিক্ত খরায় চাষিদের আমগাছে সময়মতো পানি দেওয়া এবং মাঝেমধ্যে আমের বোটা এবং পাতায় পানি স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবছরই স্বাভাবিকভাবে এমন সময় গাছ থেকে আমের গুটি ঝরে পড়ে। তবে এই সময়ে গাছে বাড়তি পরিচর্যা করলে অস্বাভাবিকভাবে গুটি ঝরে পড়া বন্ধ হবে।

আর তীব্র খরায় ধানের গোড়ায় ১-২ ইঞ্চি পানি দিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়ে এই কৃষিবিদ বলেন, ধানের ফলন বৃদ্ধির সময়টুকু তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে। তবে দুপুরের পর থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এ সময় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলেও ধান নষ্ট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।