হাসপাতালে মব সৃষ্টি ও কাজে বাধার অভিযোগ সোহরাওয়ার্দীর পরিচালকের

হাসপাতালে মব সৃষ্টি ও কাজে বাধার অভিযোগ সোহরাওয়ার্দীর পরিচালকের
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মব সৃষ্টি ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগ করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মামুনুর রশীদ। গত ৪ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ অভিযোগ করেন তিনি।

মন্ত্রণালয়ের পার্ট-২ এর যুগ্ম সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা ওই চিঠিতে ডা. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘যথাবিহীত সম্মান প্রদর্শন পূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমি নিম্নে স্বাক্ষরকারী স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পার্ট-২ অধিশাখা এর স্মারক নং-৪৫,০০.০০০০,১৪৮,০১৯.২০২৬-৫১৯ তারিখ।

১৯/০৫/২০১৬ খ্রিঃ তারিখের প্রজ্ঞাপন মোতাবেক পরিচালক (চঃদাঃ) শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঢাকায় ২১/০৫/২০২৬ ইং পূর্বাহ্নে যোগদানপত্র দাখিল করি এবং ২৩/০৫/২০২৬ ইং তারিখ হতে দায়িত্বভার গ্রহণ করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘২৫/০৫/২০২৬ ইং থেকে ০১/০৬/২০২৬ ইং পর্যন্ত একটানা ০৮ (আট) দিন শহীদ প্রেসিডেন্ট (বীর উত্তম) জিয়াউর রহমান’র ৪৫তম শাহাদৎ বার্ষিক উপলক্ষ্যে নানা মানবসেবামূলক ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছি। সরকার বাহাদুরের নির্দেশে ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, মানোন্নয়ন, নিরাপত্তা বিধান, দালাল ‍নির্মূল ও হাসপাতাল চত্বরে চুরি প্রতিরোধ এবং যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংসহ অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধ শুরু করেছি।’

‘এমতাবস্থায়, এসব কাজের জন্য এখানকার পূর্বের সিন্ডিকেট আমার প্রতি মারমুখী হিংস্রতার পরিচয় দিয়েছে এবং আমাকে হুমকি দিয়েছে আমি যেন এই হাসপাতাল ক্যাম্পাসে আর না ঢুকি। কতিপয় উদ্ধৃঙ্খল ছাত্র-জনতা, চিকিৎসক এবং আরো কিছু পরিচিত ও অপরিচিত মুখ আমার সরকারি দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে আমার সাথে বাদানুবাদ লিপ্ত হয় এবং মিডিয়াকে সাথে নিয়ে নানা প্রকার প্রশ্নবানে জর্জরিত করেন, যাহা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট অথবা পরিস্থিতির স্বীকার’—বলেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক।

ডা. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘পরিশেষে তারা আমাকে বলেন যে, আমরা আপনাকে কোন সহযোগীতা করতে পারব না। আপনি চলে যান। তারপর তারা সকলে আমাকে জোরপূর্বক রুম থেকে বের করে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আমি নিরুপায় হয়ে ৯৯৯ এ কল করে এস.আই এবং ডিজিএফআই’র সদস্য নিয়ে নিরাপদে রুম ত্যাগ করি। ঐ সময় তারা রুমে তালা লাগিয়ে দেয় এবং আমাকে সরকারি কাজে বাধা প্রদান করেন।

কোন ফাইলে সহি/স্বাক্ষর অথবা হাসপাতালের কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ যাতে না করতে পারি তার জন্য আমাকে শাসায় এবং বলেন যে, আপনি মন্ত্রণালয়ে গিয়ে পদত্যাগ করেন, যাহা চাকুরীবিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সরকারি নির্দেশে আমি দায়িত্বভার গ্রহণ করি এবং আমি সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করে যাব ইনশাআল্লাহ।’

এ পরিস্থিতিতে কর্মস্থলে নিরাপত্তা চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তপেক্ষ চান সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক।

তিনি বলেন, ‘অতএব, উপরোক্ত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমার চাকুরীস্থলের নিরাপত্তা বিধানের ব্যবস্থা দানে বাধিত করতে আপনার একান্ত মর্জি কামনা করছি।’

প্রসঙ্গত, নিয়োগ পাওয়ার পর গত ২০ মে যোগদান করতে এসে কলেজ শাখার সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেতাদের বাধার মুখে পড়েন সদ্য নিয়োগ পাওয়া সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মামুনুর রশীদ। পরে যোগদান না করেই চলে যান তিনি। এর একদিন পর ২১ মে কর্মস্থলে তিনি যোগদান করেন।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত ৩ জুন নিজ কার্যালয়ে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সদস্য এবং তাদের সমর্থিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, নার্স ও ছাত্রদলের নেতাদের তোপের মুখে পড়েন সোহরাওয়ার্দীর পরিচালক।

পরে পতিত স্বৈরাচার সরকারের দোসর আখ্যা দিয়ে সরকার সমর্থক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত বিক্ষোভের মুখে কার্যালয় ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।