দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী ও বাস্তবমুখী শিক্ষায় দক্ষ করে তুলতে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে এখন থেকে মাধ্যমিক স্তরের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার পাশাপাশি যেকোনো একটি কারিগরি বা বৃত্তিমূলক বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করলেও তাদের বড় অংশই কর্মসংস্থানের বাজারে গিয়ে দক্ষতার অভাবে পিছিয়ে পড়ছে। এই ‘স্কিল গ্যাপ’ বা দক্ষতার ঘাটতি দূর করতেই একদম তৃণমূল অর্থাৎ স্কুল পর্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত করানোর এই মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য সাধারণ বিষয়ের পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা একটি আবশ্যকীয় বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:
আইসিটি ও ডিজিটাল স্কিলস: প্রাথমিক কোডিং, কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রাথমিক ধারণা।
ব্যবহারিক কাজ: ইলেকট্রনিক্স, মোবাইল রিপেয়ারিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, সেলাই ও বুটিকস এবং কৃষিশিক্ষার মতো হাতে-কলমে শেখার উপযোগী বিষয়।
ল্যাবরেটরি ও কর্মশালা: তাত্ত্বিক ক্লাসের চেয়ে শিক্ষার্থীদের ল্যাব বা ওয়ার্কশপে হাতে-কলমে কাজ শেখার ওপর বেশি জোর দেওয়া হবে।
এই বিশাল উদ্যোগ বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং ল্যাবরেটরি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষকদের কারিগরি বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে সরকার। যেসব বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা নেই, তাদের কাছাকাছি থাকা টেকনিক্যাল স্কুল বা কলেজের সঙ্গে যুক্ত করে ক্লাস পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।





