আট দশকের প্রথা ভাঙল ভারত: সৌদি আরবে প্রথম অমুসলিম রাষ্ট্রদূত নিয়োগ।

ভারত ও সৌদি আরবের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক ঐতিহাসিক মোড় দেখা দিয়েছে। ১৯৪৮ সালের পর এই প্রথম সৌদি আরবে কোনো অমুসলিম কূটনীতিককে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ভারত। ১৯৯৮ ব্যাচের অভিজ্ঞ কূটনীতিক ‘বিপুল’ -কে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বেছে নিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ প্রায় আট দশক ধরে চলা প্রচলিত প্রথা ভেঙে এই নিয়োগ ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে এক বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কেন এতদিন কেবল মুসলিমরাই নিয়োগ পেতেন?
ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে রিয়াদে রাষ্ট্রদূত এবং জেদ্দায় কনসাল জেনারেল হিসেবে কেবল মুসলিম কর্মকর্তাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হতো। এর প্রধান কারণ ছিল ‘হজ ব্যবস্থাপনা’। প্রতি বছর ভারত থেকে প্রায় পৌনে দুই লাখ মুসলিম হজে যান। মক্কা ও মদিনার নির্দিষ্ট কিছু পবিত্র এলাকায় অমুসলিমদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ থাকায়, কোনো জরুরি পরিস্থিতি বা প্রশাসনিক সমন্বয়ের প্রয়োজনে অমুসলিম রাষ্ট্রদূতের পক্ষে সেখানে যাওয়া সম্ভব ছিল না। ১৯৯৭ সালের মিনায় অগ্নিকাণ্ডের মতো ট্র্যাজেডি মোকাবিলায় তৎকালীন মুসলিম কূটনীতিকদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।

কেন এই পরিবর্তন?
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে:
১. যোগ্য কর্মকর্তার অভাব: বর্তমানে ভারতের পররাষ্ট্র ক্যাডারে (IFS) জ্যেষ্ঠ পর্যায়ে যোগ্য মুসলিম কর্মকর্তার সংখ্যা কমে গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, ২০১৬ সালে সাবেক পুলিশ কমিশনার আহমদ জাভেদকে এই পদে পাঠাতে হয়েছিল। এবার সেই শূন্যতা দূর করতে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
২. কৌশলগত গভীরতা: সৌদি আরব এখন আর ভারতের কাছে শুধু তেল আমদানির উৎস নয়। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর অধীনে দেশটি এখন প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও অবকাঠামোর বৈশ্বিক কেন্দ্র। এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন বিপুল-এর মতো কূটনীতিককেই রিয়াদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য মনে করছে নয়াদিল্লি।

উল্লেখ্য, বিপুল এর আগে কাতার, দুবাই, কায়রো এবং জেনেভায় অত্যন্ত সফলতার সাথে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তার এই নিয়োগ প্রমাণ করে যে, ভারত-সৌদি সম্পর্ক এখন ধর্মীয় গণ্ডি পেরিয়ে এক শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে।