প্রয়াত জোটার স্মরণে বিশেষ ব্যান্ড পরে বিশ্বকাপ খেলবে পর্তুগাল

অকাল প্রয়াত সাবেক সতীর্থ দিয়োগো জোটার স্মরণে বিশেষ আর্মব্যান্ড পরে বিশ্বকাপে মাঠে নামবে পর্তুগাল জাতীয় দলের ফুটবলাররা। শনিবার (১৩ জুন) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন পর্তুগালের মিডফিল্ডার ভিতিনিয়া।

আগামী বুধবার ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ ‘কে’-তে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পর্তুগাল।

দলের খেলোয়াড়দের হাতে থাকা বিশেষ এই আর্মব্যান্ড উপহার দিয়েছেন পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্তেনেগ্রো। এতে বর্তমান স্কোয়াডের সব খেলোয়াড়ের নামের পাশাপাশি বিশেষভাবে যুক্ত করা হয়েছে প্রয়াত ফরোয়ার্ড দিয়োগো জোটার নাম।

গত বছর স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ভাইসহ নিহত হন জোটা। জাতীয় দলের হয়ে ৪৯ ম্যাচ খেলে ১৪ গোল করেছিলেন তিনি। তার মৃত্যু এখনো গভীরভাবে নাড়া দেয় পর্তুগাল দলকে।

ভিতিনহা বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি আমাদের এই আর্মব্যান্ড দেন। তারা নিশ্চিত করেছেন, এটি যেন ম্যাচে পরা যায় এবং সব নিয়ম মেনে তৈরি করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এতে সব খেলোয়াড়ের নামের সঙ্গে বিশেষভাবে দিয়োগো জোটার নামও আছে। আমরা চাইলে ব্যবহার করতে পারতাম, আবার না-ও করতে পারতাম। কিন্তু আমরা অনেক ভালোবাসা নিয়েই এটি পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

পিএসজির হয়ে টানা দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা ভিতিনহা অবশ্য বিশ্বকাপে পর্তুগালকে ফেবারিট বলতে রাজি নন।

তিনি বলেন, “আমি বলবো না আমরা ফেবারিট। তবে আমাদের অনেক গুণ ও সামর্থ্য আছে, যা দিয়ে আমরা অনেক দূর যেতে পারি।”

কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়ের স্মৃতিও মনে করিয়ে দেন এই মিডফিল্ডার।

ভিতিনিয়া বলেন, “আমরা জানি সঠিক পথ হলো বিনয়ী থাকা এবং নিজেদের সেরাটা খেলা। প্রতিভা আমাদের আছে, এখন শুধু টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল বিষয়গুলো একসঙ্গে কাজে লাগাতে হবে।”

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাজুড়ে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপের ভৌগোলিক বিস্তৃতিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখছেন তিনি। তবে এটিকে অজুহাত বানাতে রাজি নন।

তার ভাষায়, “আবহাওয়া আমাদের খেলায় প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু এটা শুধু আমাদের জন্য নয়, সবার জন্যই। বিভিন্ন শহরে ভিন্ন ভিন্ন তাপমাত্রা থাকবে। তবে এটি বিশ্বকাপ, এখানে কোনো অজুহাত চলে না।”

নিজের ব্যক্তিগত স্বপ্ন নিয়েও কথা বলেন ভিতিনহা। সাবেক ফুটবলার বাবা ভিতর মানুয়েলের পথ ধরেই ফুটবলে আসা এই তারকা বলেন, বিশ্বকাপ জেতাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই এটাই আমার স্বপ্ন। আমি সবসময় এই মঞ্চে খেলতে চেয়েছি। অনেক কিছু অর্জন করেছি, এখন বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নও পূরণ করতে চাই।”