ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না রাখতে সম্মত, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের দাবি ‘ভুয়া’: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ কীভাবে নির্ধারিত হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য অস্পষ্ট রয়েছে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না রাখতে সম্মত হয়েছে! এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে—এই খবরটি ডেমোক্র্যাটদের ছড়ানো ভুয়া খবর।

তিনি আরও সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, ইরান যদি চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলে, তবে পুনর্গঠন তহবিল হিসেবে ৩০০ বিলিয়ন ডলার পাবে—এ ধরনের তথ্যের কোনো বাস্তব ভিত্তি রয়েছে কি না।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) এমন কিছু শর্তের ইঙ্গিত রয়েছে, যেখানে ইরান নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে দেশটির জব্দকৃত তহবিল মুক্তি, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং পুনর্গঠনের জন্য অর্থ সহায়তার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি যে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরান চুক্তি মানছে কি না তা যাচাইয়ের দায়িত্ব কার থাকবে এবং গত গ্রীষ্মে মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিচে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কীভাবে নিষ্ক্রিয় বা সরানো হবে।

ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯ জুন শুক্রবার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে পারমাণবিক ইস্যুতে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত নথির পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, হোয়াইট হাউস এই সপ্তাহেই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ্য প্রকাশ করবে। তিনি জানান, ইরান তাদের বাধ্যবাধকতা পূরণ না করা পর্যন্ত এক পয়সাও পাবে না।

ভ্যান্স আরও বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এই চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে আবারও অগ্রগতি এসেছে।

এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ভ্যান্স বলেন, “প্রেসিডেন্ট শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন—ইরানের কাছে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। বিরোধিতা সত্ত্বেও তার শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আবারও ফলপ্রসূ হয়েছে।”

এদিকে চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে জব্দকৃত অর্থ ছাড়, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং পুনর্গঠন সহায়তার অংশ হিসেবে বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসেনি।