বিশ্বকাপের মঞ্চে বড় তারকারা যখন নিজেদের সেরা ছন্দে হাজির হন, তখন ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশাও পূরণ হয় দারুণভাবে। বুধবার ঠিক তেমনই এক দিন কাটল, যেখানে লিওনেল মেসি, আর্লিং হালান্ড ও কিলিয়ান এমবাপে গোলের ঝলক দেখিয়ে নিজেদের দলকে জয়ের পথে নেতৃত্ব দিয়েছেন!
দিনের সবচেয়ে আলোচিত পারফরম্যান্সটি এসেছে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসির কাছ থেকে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন ৩৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এটি ছিল তার প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-তে, যা তাকে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের পাশে বসিয়েছে।
বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করার ঠিক ২০ বছর পর আবারও ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন মেসি। বয়স ৩৯-এর দোরগোড়ায় পৌঁছালেও তিনি যে এখনো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন।
ফ্রান্সের হয়ে উজ্জ্বল ছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধে বেশ চাপে ছিল ফরাসিরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করে দলের ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এর মধ্যে দ্বিতীয় গোলটি ছিল অসাধারণ দূরপাল্লার শট থেকে।
এই দুই গোলের মাধ্যমে এমবাপে ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। ৫৮ গোল নিয়ে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন সাবেক ফরোয়ার্ড ওলিভিয়ার জিরুট কে।
অন্যদিকে নরওয়ের হয়ে আর্লিং হালান্ড দেখিয়েছেন তার পরিচিত গোল করার দক্ষতা। ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় এনে দেন তিনি। মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে ক্লাব ফুটবলে কিছুটা ছন্দ হারালেও বিশ্বকাপে শুরু থেকেই ভয়ংকর রূপে দেখা গেল নরওয়ের এই তারকাকে।
বিশ্বকাপের শুরুতেই মেসি, হালান্ড ও এমবাপের এমন দাপুটে পারফরম্যান্স শিরোপাপ্রত্যাশী দলগুলোর শক্তিমত্তার বার্তা দিয়েছে। এখন ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা, পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও এই গোলমেশিনরা একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন কী না।





