‘কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের মিনাবে বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা করেনি…যুদ্ধে ভুল হয়েই থাকে। যুদ্ধ খুবই নিষ্ঠুর। ওই বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।’—ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
দক্ষিণ ইরানের মিনাবে হওয়া ওই হামলার জন্য মার্কিন বাহিনীই সম্ভবত দায়ী বলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে আসে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রথম এই খবরটি প্রকাশ করে। যদিও পেন্টাগন এই তদন্তের পরিধি বাড়িয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত তারা প্রাথমিক কোনো ফলাফলের কথা স্বীকার করেনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই ওই বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা চালানো হয়। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এতে ১৭৫ জনেরও বেশি শিশু ও শিক্ষক নিহত হন।
ফ্রান্সে জি-৭ বৈঠকের ফাঁকে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পকে মিনাবের বিদ্যালয়ে হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। এমন প্রশ্ন করাটাই বেশ অদ্ভুত।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘তারা (ইরান) যে হাজার হাজার সেনাকে উড়িয়ে দিল, সেটার কী হবে?’
এ সময় ট্রাম্প দাবি করেন, ‘কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ওই কাজ করেনি।’
‘ভুলত্রুটি হতেই পারে। যুদ্ধ মানেই তো নির্মমতা’, যোগ করেন ট্রাম্প।
উল্লেখ্য, ওই ঘটনার পরপরই ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছিলেন যে ওই হামলার জন্য ইরানই দায়ী। যদিও পরে তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেন। এরপর থেকে তিনি বলে আসছেন, হামলা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না, তদন্ত চলছে এবং তদন্তের ফলাফল তিনি মেনে নেবেন।
গত মাসে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান জানিয়েছিলেন, বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার তদন্তটি বেশ ‘জটিল’। কারণ, স্কুলটি ইরানের একটি সক্রিয় ক্রুজ মিসাইল ঘাঁটির সীমানার মধ্যে অবস্থিত। তবে তিনি এ-ও জানিয়েছিলেন যে তদন্তকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, যে মার্কিন কর্মকর্তারা হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেছিলেন, তারা সম্ভবত পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করেছিলেন।





