আন্তর্জাতিক মান যাচাই করে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ইউনিসেফের সঙ্গে সমন্বয় করে আন্তর্জাতিক মান যাচাইয়ের মাধ্যমে উন্নতমানের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সংগ্রহ করা হয়েছে। টিকার মান নিয়ে ইউনিসেফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই এগুলো আনা হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আশ্বস্ত, শিশুদের উন্নতমানের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

রোববার (২৮ জুন) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিসেফের সঙ্গে সমন্বয় করে আন্তর্জাতিক মান যাচাইয়ের মাধ্যমে উন্নতমানের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি জানান, সারা দেশে একযোগে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশের সব এলাকায় শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

ক্যাম্পেইনের কোনো শিশু নির্ধারিত দিনে বাদ পড়লে পরবর্তী দিনগুলোতে তাকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর সুযোগ থাকবে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রথম দিন কেউ মিস করলে পরদিন, প্রয়োজনে তার পরের দিনও তাকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের শুধু ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ালেই হবে না, মায়ের দুধও খাওয়াতে হবে। রোগ প্রতিরোধে জন্মের পরপরই শিশুকে মায়ের শাল দুধ খাওয়াতে হবে। শালদুধের চেয়ে বড় ভিটামিন আর কিছু হতে পারে না। এছাড়া শিশুদের পানি, মধু, চিনি ও সুষম খাবার খাওয়াতে হবে। এতে শিশুদের শরীরে পুষ্টি তৈরি হবে।

তিনি বলেন, ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। সেই সঙ্গে হামসহ নানা রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন।

হামের টিকাদান কর্মসূচির আওতায় থাকা শিশু ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সংখ্যাগত পার্থক্য নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কোনো দেশই শতভাগ নিখুঁত পরিসংখ্যান দিতে পারে না। তবে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সব শিশুকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনছে। আমরা সব শিশুকেই কাভার করার চেষ্টা করেছি। তারপরও খুঁজে খুঁজে শিশুদের সেবা দেয়া হচ্ছে। এখন এই ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনও একটি সম্পূরক কর্মসূচি। এতে শিশুদের কোনো অসুবিধা হবে না।

এ সময় স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান ও অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ আলীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবারের ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। এ জন্য সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্র এবং প্রায় ৫০০ অস্থায়ী কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা দায়িত্ব পালন করছেন।