চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় শুরু হচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা

ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তি ঝুলে থাকার বাস্তবতায় জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘যেকোনো মূল্যে’ তিস্তা ব্যারাজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সংসদে জানিয়েছেন, চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছেন।

‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন অব তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’-এর প্রথম ধাপের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা চীন ঋণ হিসেবে দেবে এবং বাকি অর্থ বাংলাদেশ সরকার বহন করবে।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ার চায়না’র করা সমীক্ষার পর পরিকল্পনা কমিশন এই ব্যয়ের অনুমোদন দিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে ঋণ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

এই মহাপরিকল্পনার আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদী শাসন ও ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, ৬৭টি গ্রোয়েন নির্মাণ এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার করা হবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার প্রায় দুই কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে, কমবে নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি।

তবে পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত মনে করেন, অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করতে ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তির কোনো বিকল্প নেই।