মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় লাখ লাখ মানুষের উপচে পড়া উপস্থিতি এবং তাঁদের বাঁধভাঙা শোক প্রকাশের হূদয়বিদারক দৃশ্য দেখে নিজের চরম বিস্ময় ও খোলামেলা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি স্পষ্ট দাবি করেছেন, তাঁর আগে থেকে একধরনের দৃঢ় বিশ্বাস বা ধারণা ছিল যে ইরানের সাধারণ মানুষ হয়তো খামেনিকে তীব্র অপছন্দ ও মনে মনে ঘৃণা করত।
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস–কে দেওয়া এক বিশেষ সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খামেনির এই সপ্তাহব্যাপী শেষকৃত্যানুষ্ঠান গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর জন্য ইরানের সাধারণ মানুষকে এভাবে রাজপথে নেমে অঝোরে কাঁদতে দেখে আমি সত্যিই ভীষণ বিস্মিত হয়েছি।
কারণ, আমি তো সব সময় ভেবেছিলাম ওখানকার মানুষ তাঁকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করে। তবে এখন তাদের এই কান্না দেখে আমার মনে হচ্ছে, এগুলো হয়তো সবই কৃত্রিম বা ভুয়া কান্না।’ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।
অ্যাক্সিওসের সিনিয়র সাংবাদিক বারাক রাভিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপকালে ট্রাম্প একপর্যায়ে কিছুটা হুমকির সুরে আরও দাবি করেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষ এখন জানাজাকে কেন্দ্র করে সব এক জায়গায় জড়ো হয়েছে, তাই যুক্তরাষ্ট্র চাইলে মাত্র একটি শট বা হামলা দিয়েই সেখানে উপস্থিত ‘সবাইকে একসাথে নির্মূল’ করে দিতে পারত।
তবে ওয়াশিংটন ইচ্ছা করেই এমন কোনো মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক সামরিক পদক্ষেপ নেয়নি; কারণ হিসেবে ট্রাম্প স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেন, ‘আমি চাইলে সেখানে উপস্থিত সবাইকে এক নিমেষে শেষ করে দিতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা মোটেও করব না, কারণ তাহলে পরবর্তীতে আমাদের সাথে শান্তি চুক্তি বা আলোচনা করার মতো আর কোনো মানুষই অবশিষ্ট থাকত না।’ ট্রাম্পের দাবি, ইরান বর্তমানে চুক্তি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আক্ষরিক অর্থেই অনুনয়-বিনয় করছে।
একই সাক্ষাৎকারে মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট আরও প্রকাশ করেন যে, আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতা পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই পারস্পরিক শান্তি আলোচনা ও কূটনীতিতে এক সপ্তাহের জন্য একটি সাময়িক বিরতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, এই শোককালীন আনুষ্ঠানিকতা চলাকালে দুই পক্ষের কেউই একে অপরের ওপর কোনো ধরনের সামরিক হামলা বা গুলি চালাবে না।
তবে ট্রাম্পের এই নাটকীয় ও সংবেদনশীল বক্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা বক্তব্য জানানো হয়নি। একইভাবে, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা সাময়িক স্থগিত রাখা বা জানাজার সময় পারস্পরিক হামলা না চালানোর বিষয়ে কোনো ধরনের যৌথ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া তথ্য প্রকাশিত হয়নি।





