ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির জানাজার নামাজ রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার শেষ বিদায়ের তৃতীয় দিনের আনুষ্ঠানিকতায় লাখো শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে এই নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জানাজার নামাজে ইমামতি করেন জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ জাফার সোবহানি।
খামেনির মরদেহের পাশাপাশি একই হামলায় নিহত তার পরিবারের আরও চার সদস্যের মরদেহেরও জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। তারা হলেন—খামেনির জামাতা ড. মেসবাহ আল-হোদা, কন্যা সাইয়্যেদেহ বুশরা হোসেইনি খামেনি, পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি।
খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় শুক্রবার। ওই দিন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং সরকারি প্রতিনিধিদল তাকে শ্রদ্ধা জানান।
শনিবার শুরু হয় জনসাধারণের অংশগ্রহণে শোকানুষ্ঠান। কালো পোশাক পরিহিত বিপুলসংখ্যক মানুষ হাতে প্রতিশোধ ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকা নিয়ে শোক মিছিলে অংশ নেন। এ সময় সমবেত জনতার একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী এবং প্রতিশোধের স্লোগানও দেয়।
রোববারের জানাজার নামাজের পর ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার তেহরানে প্রধান শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঙ্গলবার মরদেহ নেওয়া হবে পবিত্র নগরী কোমে।
পরবর্তী ধাপে ইরাকের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের অনুরোধে বুধবার নাজাফ ও কারবালায় পৃথক শোক ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
সবশেষে বৃহস্পতিবার মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনিকে দাফন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি ঘটবে।
সূত্র: আইআরএনএ





