ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়রের পর এবার চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চকে চিরতরে বিদায় জানালেন ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর অত্যন্ত হাইভোল্টেজ ও স্নায়ুচাপের ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনের কাছে ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে পর্তুগাল ছিটকে যাওয়ার সাথে সাথেই শেষ হয়ে গেল এই পর্তুগিজ যুবরাজের অধরা বিশ্বজয়ের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। মাঠের এই চরম পরাজয় কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের হৃদয়কে যেমন ভেঙে চুরমার করেছে, তেমনি সিআর সেভেনের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এক ট্র্যাজিক সমাপ্তি টেনেছে।
পুরো ম্যাচজুড়েই দুই দলের মধ্যে ছিল টানটান উত্তেজনা এবং একের পর এক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের রোমাঞ্চকর প্রদর্শনী। তবে স্পেনের জমাট ও ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগ আর নিখুঁত ফুটবল কৌশলের কাছে শেষ পর্যন্ত কোনোভাবেই ভাঙেনি পর্তুগালের গোল করার ডেডলক। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে স্পেনের করা সেই একমাত্র জয়সূচক গোলটিই মূলত পর্তুগালকে চলতি বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট থেকে চিরদিনের জন্য ছিটকে দেয় এবং একই সাথে স্প্যানিশদের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো মাঠজুড়ে এক বুক হাহাকার আর গভীর হতাশা নেমে আসে পর্তুগাল শিবিরে। ৪১ বছর বয়সী কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মাঠে আর নিজের ভেতরের কান্না ও আবেগ কোনোভাবেই ধরে রাখতে পারেননি। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমের টানেলে যাওয়ার পথে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়ে তাঁর সেই কান্নাভেজা চোখ ও বেদনাকাতর মুখ, যা মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
২০০৬ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্তুগালের জাতীয় ফুটবল দলকে একা হাতে টেনে নিয়ে গেছেন সিআর সেভেন। নিজের দেশকে মর্যাদাপূর্ণ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা নেশনস লিগের ট্রফি জেতাতে পারলেও ফুটবল ইতিহাসের এই মহানায়কের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ফুটবলের সর্বোচ্চ মুকুট তথা বিশ্বকাপ ট্রফিটা শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অধরাই থেকে গেল।
পর্তুগিজ এই ফরোয়ার্ডের জন্য এটাই ছিল ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ, আর ফুটবল ক্যারিয়ারের এমন এক শেষ ম্যাচ যে এতটা বেদনাবিধুর ও ট্র্যাজিক হারের মাধ্যমে শেষ হবে, তা হয়তো পৃথিবীর কোনো ফুটবল ভক্ত কখনো কল্পনাও করেননি। ট্রফি কিংবা মেডেল দিয়ে হয়তো বিশ্ব ফুটবলে রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব আর বিশাল অবদান কখনোই পরিমাপ করা যাবে না, তবে বিশ্বমঞ্চে তাঁর এই অশ্রুসিক্ত ও করুণ বিদায় ফুটবল ইতিহাসের পাতায় অন্যতম এক চিরস্মরণীয় ও বেদনাবিধুর মুহূর্ত হয়ে অক্ষয় থাকবে।





