যে কোচকে নিয়ে ছিল সংশয়, তিনিই এখন মরক্কোর শক্তি

বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা আগে থেকেই ছিল, তবে তা ছিল অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে। এবার সিনিয়র দল নিয়েও দারুণ সাফল্য পাচ্ছেন মরক্কোর প্রধান কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি। বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে তাকে ঘিরে বাড়ছে প্রশংসা।

৪৯ বছর বয়সী ওয়াহবি চলতি বছরের মার্চে মরক্কোর দায়িত্ব নেন। এরপর তার অধীনে দলটি এখন পর্যন্ত ১০ ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে ছয়টিতে জিতেছে, চারটি ম্যাচ ড্র করেছে। অর্থাৎ এখনও কোনো ম্যাচে হারেনি মরক্কো।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে চিলিতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে মরক্কোকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন ওয়াহবি। সেই আসরের সেমিফাইনালেই বিদায় করেছিল ফ্রান্সকে।

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের পর সাবেক কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই দায়িত্ব ছাড়লে নতুন কোচ হিসেবে ওয়াহবির নাম প্রথম দিকে খুব বেশি আলোচনায় ছিল না। কারণ, সিনিয়র পর্যায়ে প্রধান কোচ হিসেবে তার অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের কাজ দিয়েই সব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন তিনি।

বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া ওয়াহবির বাবা-মা মরক্কোর নাগরিক। মাত্র ২১ বছর বয়সে বেলজিয়ামের ক্লাব আন্দারলেখটের অনূর্ধ্ব-৯ দলের কোচ হিসেবে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর ক্লাবটির বয়সভিত্তিক দলে কাজ করে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় গড়ে তুলেছেন। বর্তমান বেলজিয়াম তারকা জেরেমি ডোকু, ইউরি টিলেমানস এবং মরক্কোর মিডফিল্ডার বিলাল এল খান্নুসও তার অধীনে খেলেছেন।

পরে সৌদি আরবের একটি ক্লাবে সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেন। এরপর মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনে যোগ দিয়ে বয়সভিত্তিক দলের দায়িত্ব নেন এবং সেখান থেকেই সিনিয়র দলের প্রধান কোচ হওয়ার সুযোগ পান।

ওয়াহবির সাবেক সহকর্মীরা বলেন, খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তার। বড় তারকাদের কাছ থেকেও কীভাবে সেরাটা বের করে আনতে হয়, তা তিনি ভালোভাবেই জানেন।

মরক্কোর সাবেক ফুটবলার ও বর্তমান সহকারী কোচ ইউসুফ হাজ্জি বলেন, ওয়াহবির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তিনি নিজের খেলার ধরন থেকে সরে যান না। প্রতিপক্ষকে দেখে নয়, নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পছন্দ করেন। আর এ কারণেই এখন মরক্কোর খেলার একটি আলাদা পরিচয় তৈরি হয়েছে।

এবার সেই পরিচয় নিয়েই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নামবে মরক্কো।