ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার মা সন্ধ্যা মণ্ডল বলেন, ছেলে নিজের অপরাধের শাস্তিই পেয়েছে। এমনকি তিনি ছেলের মরদেহ গ্রহণ করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে পুলিশ প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর খবর তার পরিবারকে জানায়। এরপর প্রতিক্রিয়ায় সন্ধ্যা মণ্ডল বলেন, তার ছেলে যে অপরাধ করেছে, তার পরিণতি সে ভোগ করেছে। একটি শিশুর ওপর এমন নৃশংস নির্যাতনের পর তার মৃত্যুর ঘটনায় তিনি কোনো দুঃখ অনুভব করছেন না।
তিনি আরও বলেন, যে মেয়েটিকে কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, সেই ঘটনার জন্য তার ছেলে দায়ী। তাই তিনি ছেলের মরদেহ আনবেন না এবং এ বিষয়ে আর কোনো দায়িত্বও নেবেন না।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল। এ সময় প্রভাস মণ্ডল এক পুলিশ সদস্যের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন এবং পালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে বারুইপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া অন্য অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার দিন আনন্দ সর্দার ও দিবাকর সর্দার একটি ঝুপড়িতে বসে মাদক সেবন করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ১০ হাজার টাকার প্রলোভন দেখিয়ে প্রভাস মণ্ডলকে কিশোরীকে সেখানে নিয়ে আসতে বলেন। পরে কিশোরী পালানোর চেষ্টা করলে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। অচেতন হয়ে পড়ার পর তাকে একটি বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশের দাবি।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং প্রভাস মণ্ডলের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও প্রভাস নিহত হয়েছেন, তবুও মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের ১২ বছর বয়সী ওই কিশোরী। পরদিন একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ ওঠে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত জনতা সন্দেহভাজন একজনকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে। পরে পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।





