বন্যায় চীনে খামার থেকে পালালো ৯০০ সাপ, আতঙ্কে স্থানীয়রা

দক্ষিণ চীনের গুয়াংজি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় একটি সাপের খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ৯০০টি সাপ পালিয়ে গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, ভূমিধস ও টর্নেডোতে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বন্যার পানিতে দাঁড়িয়ে স্থানীয়রা বাঁশের লাঠি দিয়ে সাপ ধরার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় কর্মকর্তা উ ঝি জানান, পালিয়ে যাওয়া সাপগুলোর বেশিরভাগই বিষধর নয়। সেগুলো উদ্ধারে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ দল মাছ ধরার জাল ও স্টান গান ব্যবহার করে অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রামবাসীদের কোনো সাপ দেখলে নিজেরা ধরার চেষ্টা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গুয়াংজি অঞ্চলে সোমবার মধ্যরাতে সর্বোচ্চ ‘রেড’ বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫৫টি নদীর ৭০টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানির স্তর সতর্কসীমা অতিক্রম করেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার, আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি নদী, জলাধার ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো এবং আগাম সতর্কতা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ টাস্কফোর্স, উদ্ধারকর্মী, রাবার বোট ও স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন করেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশজুড়ে ৬২টি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে এবং কয়েকটি এলাকায় রেকর্ড বন্যার খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গানসু প্রদেশে ভূমিধসে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। হুবেই প্রদেশে প্রবল বৃষ্টি ও বিরল টর্নেডোর আঘাতে আরও অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বহু বাড়িঘর, সড়ক ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, এল নিনোর প্রভাব এবং চলমান বর্ষা মৌসুমের কারণে চলতি বছর চীনকে আরও কঠিন বন্যা ও চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় নদীর পাশাপাশি ছোট নদী, পাহাড়ি ঢলপ্রবণ এলাকা এবং নগরাঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

তথ্য সূত্র- গ্লোবাল টাইমস।