মন্ত্রিসভায় যাচ্ছে পে স্কেলের চূড়ান্ত প্রস্তাব, সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতন ও অনুপাতে আসছে পরিবর্তন

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের চূড়ান্ত প্রস্তাব আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে পরে এ বিষয়ে গেজেট জারি করবে সরকার। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল বেতন এবং বেতন অনুপাতে পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে আগামী আগস্ট মাসে গেজেট প্রকাশ হতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগের একটি সূত্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সচিব কমিটি কয়েকটি বিষয়ে সংশোধনের প্রস্তাব করেছে। কমিশন প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করলেও সচিব কমিটি সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। পাশাপাশি সর্বনিম্ন মূল বেতনও কিছুটা কমানোর আলোচনা রয়েছে।

এ ছাড়া সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। বেতন কমিশন যেখানে ১:৮ অনুপাতের সুপারিশ করেছে, সেখানে সচিব কমিটি তা কমিয়ে ১:৭ দশমিক ৫ করার পক্ষে মত দিয়েছে। বর্তমানে এই অনুপাত রয়েছে ১:৯ দশমিক ৪।

সূত্র বলছে, নতুন মূল বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোতে শুধু মূল বেতন নয়, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও বিভিন্ন ভাতাতেও আসছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

ইনক্রিমেন্টে গ্রেডভিত্তিক নতুন কাঠামো

বর্তমানে সব গ্রেডে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কার্যকর থাকলেও নতুন পে স্কেলের খসড়ায় এতে বড় ধরনের ভিন্নতা আনা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী—

ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড: ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল থাকবে
পঞ্চম গ্রেড: ৪ শতাংশ
তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেড: ৩ দশমিক ৫ শতাংশ
দ্বিতীয় গ্রেড: ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ
প্রথম গ্রেড: আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই কাঠামোর পেছনে রয়েছে জনমত জরিপের ফলাফল। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশই নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন।

ভাতা কাঠামোয় পরিবর্তন

নতুন পে স্কেলে ভাতার ক্ষেত্রেও কমিশনের সুপারিশ আংশিকভাবে সংশোধন করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী—

চিকিৎসা ভাতা: ৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ৩ হাজার টাকা
শিক্ষা ভাতা: ২ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ টাকা

এদিকে নতুন পে স্কেলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা ও ঝুঁকিভাতার মতো সুবিধাগুলোতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিশনের সুপারিশে কিছু পরিবর্তন এলেও বর্তমান কাঠামোর তুলনায় নতুন বেতন ও ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। প্রথম ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হবে এবং পরবর্তী ধাপে অন্যান্য ভাতা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনার আলোচনা চলছে। বর্তমানের মতো সব গ্রেডে সমান হারে ইনক্রিমেন্ট না দিয়ে গ্রেডভেদে ভিন্ন হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সচিব কমিটির সুপারিশ মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমেই নতুন পে স্কেলের চূড়ান্ত কাঠামো ও বাস্তবায়নের সময়সূচি নির্ধারণ হবে।