শেষ বাঁশি বাজতেই সংঘর্ষে জড়ালেন আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের সমর্থকরা

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি মানেই ফুটবলের সীমানা ছাড়িয়ে ইতিহাস, রাজনীতি এবং আবেগের এক অনন্য মিশেল। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত গতকালের সেমিফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি! মাঠে শরীরনির্ভর লড়াইয়ের পাশাপাশি গ্যালারিতেও ছিল বাড়তি উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসির দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

ম্যাচজুড়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ব্যানার নিয়ে উদযাপনও নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মেসি ও ডিয়েগো ম্যারাডোনার ছবি হাতে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের সমর্থকদের উদ্দেশে স্লোগান দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে ইংল্যান্ডের এক সমর্থক টুপি ছুড়ে মারেন, এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে হয়। সংঘর্ষ থামাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে দুই দলের কয়েকজন সমর্থককে আটক করা হয়। ভাইরাল হওয়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, মেসির জার্সি পরা এক আর্জেন্টাইন সমর্থককে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাচ্ছে।

সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং মিডফিল্ডার রদ্রিগো দি পল ম্যাচটিকে সাধারণ একটি ফুটবল লড়াই হিসেবে উল্লেখ করলেও বাস্তবে এই দ্বৈরথের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস। ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। ওই সংঘাতে প্রায় ৬৫০ আর্জেন্টাইন, ২৫৫ ব্রিটিশ সেনা এবং তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। সেই ঘটনার প্রভাব দুই দেশের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেও বহু বছর ধরে বিদ্যমান।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াইয়ের সঙ্গে ফুটবল ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যায় জড়িয়ে আছে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাতিনকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রেইটলেইন। ভাষাগত জটিলতার কারণে তৈরি হওয়া সেই বিতর্ক থেকেই পরবর্তীতে ফুটবলে লাল ও হলুদ কার্ড চালুর ধারণা বাস্তবায়িত হয়।

দুই দলের দ্বৈরথের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় ১৯৮৬ বিশ্বকাপ। মেক্সিকোর আস্তেকা স্টেডিয়ামে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ খ্যাত দুটি গোলের সুবাদে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। প্রায় চার দশক পর সেই ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি অধ্যায়ে মেসি শেষ মুহূর্তে দুটি অ্যাসিস্ট করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এনসো ফের্নান্দেস ও লাউতারো মার্তিনেসের গোলে আসে আর্জেন্টিনার দুই গোল।

এই জয়ে সেমিফাইনালে নিজেদের দাপুটে ধারাবাহিকতাও ধরে রাখল আর্জেন্টিনা। আগামী ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের শিরোপাজয়ী দলটি এবারও ট্রফি ধরে রাখার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে। অন্যদিকে ১৮ জুলাই মায়ামিতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড!