সরকারি তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, সময়মতো তথ্য প্রকাশ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার অভাবসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে দেশের পরিসংখ্যানব্যবস্থা। একই সঙ্গে নানা সীমাবদ্ধতায় সংকটে রয়েছে সরকারের একমাত্র জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের নতুন পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত পরিকল্পনায় পরিসংখ্যানব্যবস্থার সংস্কারকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) সূত্রে জানা গেছে, নতুন কৌশলগত পরিকল্পনার খসড়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে এটি বই আকারে প্রকাশ করা হবে। পরিকল্পনায় উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি একটি সমন্বিত, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাতীয় পরিসংখ্যানব্যবস্থা গড়ে তোলার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
জিইডির সদস্য (সচিব) ড. মঞ্জুর হোসেন জানিয়েছেন, পরিকল্পনার খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। এতে সরকারের বিভিন্ন খাতভিত্তিক লক্ষ্য ও তা বাস্তবায়নের কৌশলের পাশাপাশি পরিসংখ্যানব্যবস্থার দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তাফা কে মুজেরি।
তিনি বলেন, শুধু পরিকল্পনা প্রণয়ন করলেই হবে না, এর বাস্তবায়নে তথ্য উৎপাদন ও ব্যবহারকারী সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সক্ষমতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। তবে পরিকল্পনাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কৌশলগতভাবে এগিয়ে নিতে হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এতদিন সরকারি পরিসংখ্যানকে মূলত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখা হলেও নতুন পরিকল্পনায় এটিকে নীতিনির্ধারণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা, বিনিয়োগ, গবেষণা ও জনসেবার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। লক্ষ্য হলো নির্ভরযোগ্য, সময়োপযোগী ও ব্যবহারকারীকেন্দ্রিক তথ্য নিশ্চিত করা।
বর্তমানে দেশের সরকারি পরিসংখ্যানের সবচেয়ে বড় উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বিবিএস। জনশুমারি, কৃষিশুমারি, অর্থনৈতিক শুমারি, শ্রমশক্তি জরিপ, খানা আয়-ব্যয় জরিপ, মূল্যস্ফীতির হিসাব, জাতীয় আয় বা জিডিপিসহ শতাধিক পরিসংখ্যান নিয়মিত প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। সরকারের বাজেট প্রণয়ন, দারিদ্র্য নিরূপণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বেসরকারি গবেষণা- সব ক্ষেত্রেই এসব তথ্য ব্যবহার করা হয়। ফলে পরিসংখ্যানের মান ও নির্ভরযোগ্যতা অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে পরিকল্পনার খসড়ায় দেশের পরিসংখ্যানব্যবস্থার সামনে থাকা ১৫টি বড় চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়েছে।





