রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হলো আজ। গত বছরের ২১ জুলাই দুপুরে শিশুদের হাসি-আনন্দে মুখর স্কুল প্রাঙ্গণ পরিণত হয় মৃত্যু ও আর্তনাদের জনপদে।
মর্মান্তিক ওই ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। দগ্ধ শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের দ্রুত উদ্ধার করে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান ঘটনাস্থলের আশপাশে উপস্থিত স্থানীয়রা। সবচেয়ে বেশি ভর্তি করা হয় রাজধানীর বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনিস্টিটিউটে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাইলস্টোন স্কুল ও হাসপাতালে ছুটে যান শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের স্বজনরা। বিভীষিকাময় ওই দিনের ভয়ংকর স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেঁচে যাওয়া শিক্ষার্থীদের।
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে সন্তান হারানো পরিবারগুলো এক বছরেও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
দুর্ঘটনায় নিহত সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহতাব রহমানের বাবা মিনহাজ রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ছেলেটার পড়ার টেবিলটা এক বছর ধরে একইভাবে পড়ে আছে। প্রতিদিন ওর মা বইগুলো মুছে দেয়, গুছিয়ে রাখে। মাহতাবকে ছাড়া আমরা কেউ ভালো নেই। আমাদের বাসাটা আগে প্রাণবন্ত ছিল, এখন এ বাসা কবরস্থানের মতো।
নিহত তাসনিম আফরোজ আয়মানের মা আয়েশা আক্তার বলেন, সরকার ২০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছিল। আমরা এক টাকাও ছুঁই নাই। টাকা দিয়ে আমি কী করব? সারা দুনিয়া এনে দিলেও কি আমার আয়মান ফিরে আসবে? আমি তো বলেছিলাম, আমি উল্টো টাকা দিই, আমার আয়মানকে এক সেকেন্ডের জন্য আমার বুকে এনে জড়িয়ে ধরতে দেন।
নিহত শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদের বাবা রুবেল মিয়া বলেন, সকালে যে সন্তানকে নিজের হাতে স্কুলে দিয়ে এসেছিলাম, দুপুরে তাকে ফিরে পেয়েছি লাশ হিসেবে।
তিনি বলেন, আগে দুই ছেলেকে প্রতিদিন সকালে স্কুলে নিয়ে আসতাম। এখন শুধু ছোট ছেলেকে নিয়ে আসি। স্কুলে যখন আসি, শত শত ছাত্রছাত্রীর মাঝে আমি আমার তানভীরকে খুঁজে বেড়াই, কিন্তু কোথাও পাই না। শুধু ওর শেষদিনের হাসিমুখ আর স্মৃতিগুলো বুকে ধাক্কা দেয়। আজকে একটা বছর পার হয়ে গেছে, বড় ছেলের সেই হাসি আমার চোখে এখনো ভাসে।
উল্লেখ্য, বিমানবাহিনীর এফ-৭ প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে পাইলট, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ ৩৫ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।





