‘১০০ টাকা ক্যাশ ইন নিয়ে দ্বন্দ্ব, মীমাংসার নামে ১০ লাখ চাঁদা দাবি’

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান হাউজিং এলাকার ভোলা মোবাইল টেলিকম নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ১০০ টাকা ক্যাশ ইনকে কেন্দ্র করে দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মচারীদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার মীমাংসার কথা বলে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, চাঁদা দাবির অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, ক্যাশ ইনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধকে চাঁদাবাজির ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনাটি সোমবার (২০ জুলাই) রাতে ঘটে।

ওসি মেজবাহ উদ্দিন বলেন, চাঁদা দাবির কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা। ১০০ টাকা ক্যাশ ইন নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। পরে স্থানীয়ভাবে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সমাধান হয়নি। সেই ঘটনাকেই চাঁদা দাবির অভিযোগ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আব্বাস মোহাম্মদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে আব্বাস বলেন, সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে জাকির নামে এক ব্যক্তি তার দোকানে এসে একটি বিকাশ নম্বরে ১০০ টাকা ক্যাশ ইন করার অনুরোধ করেন। তিনি জানান, ১০০ টাকা ক্যাশ ইন করা সম্ভব নয়। এতে জাকির ক্ষিপ্ত হয়ে ১০০ টাকাই ক্যাশ ইন করতে হবে, অন্যথায় দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেই দোকানের শাটার নামিয়ে দেন। এরপর দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শাহীন, সাদ্দামসহ ২৫ থেকে ৩০ জন ব্যক্তি শাহীনের বাসার সামনে একটি সালিশের আয়োজন করেন। সেখানে শাহীন ও সাদ্দাম বিরোধ মীমাংসার কথা বলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে তারা ভুক্তভোগীর ঢাকা উদ্যানের অন্যান্য দোকানে ভাঙচুর চালায়। এ সময় দোকানের কর্মচারী মাহাবুবকে মারধর করা হয় এবং রাবিক নামে আরেক কর্মচারীর মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে ভুক্তভোগী ও তার কর্মচারীদের মারধর করে দোকানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের পদধারী নেতা। তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ও ছবি ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মেজবাহ উদ্দিন বলেন, চাঁদা দাবির কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। এটি ক্যাশ ইনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের ঘটনা। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।