নাহিদ-শরীফুলের জন্য পরিকল্পনা পেছালো বিসিবি

হঠাৎ করে একটাই ইস্যু- নাহিদ রানার ইনজুরি! এই পেসারের চোট কি এড়ানো যেত? জিম্বাবুয়ে সফরের পর ক্রিকেটাঙ্গনে ঘুরছে এমন প্রশ্নই। তবে বিসিবির দাবি, নিয়মিত ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনার মধ্যেই ছিলেন এই পেসার। তবু দুর্ভাগ্যজনকভাবে চোটে পড়ায় এখন অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে অপেক্ষা ছাড়া উপায় দেখছে না বোর্ড। নাহিদ-শরীফুলের জন্য পরিকল্পনা পেছালো বিসিবি!

ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করার পাশাপাশি বাউন্সার দিয়ে ব্যাটারদের চাপে ফেলতে সক্ষম বাংলাদেশের এই তরুণ পেসার। গত দুই বছরে তার পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছে ইয়ান বিশপ, ওয়াকার ইউনিস ও ওয়াসিম আকরামের মতো ক্রিকেট বিশ্লেষকদের কাছেও। তবে জিম্বাবুয়ে সফরে পাওয়া পিঠের চোটের কারণে আগামী আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তাঁর অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বোলিং করার সময় পিঠের বাঁ পাশে ব্যথা অনুভব করে মাঠ ছাড়েন নাহিদ রানা। ইনিংসের ১৩তম ওভারে রায়ান বার্লের কাছে চার হজম করার পর তিনি ফিজিওর সহায়তায় মাঠ ত্যাগ করেন। চোটের কারণে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতেও খেলতে পারেননি এই তরুণ পেসার। এরপর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘দেখুন, পেস বোলাররা বোলিংয়ের পর চোটে পড়বে। এটা খেলারই একটা অংশ। কিন্তু এটা দুর্ভাগ্যজনক যদি সে চোটে পড়ে যায়, যদি খেলতে না পারে, সেটা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা সবরকম চিন্তাভাবনা করেই কিন্তু এগিয়েছিলাম। যে কারণে আমরা তাকে টেস্টে খেলাইনি। ওয়ানডেতেও সব খেলাইনি। টি-টোয়েন্টিও হয়তো দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির পর তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে খেলত না।’

জিম্বাবুয়ে সফরে শুধু নাহিদ রানাই নন, চোটে পড়েন আরও কয়েকজন পেসার। মুস্তাফিজুর রহমান চোটের কারণে পুরো টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে পারেননি। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে শরীফুল ইসলামও একটি টেস্ট মিস করেন। সিরিজ চলাকালে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ও দলের একাধিক পেসারের চোট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

আগামী আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। সিরিজটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় পেসারদের ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিবি। এ প্রসঙ্গে হাবিবুল বাশার বলেন, ‘দেখুন, আমার কাছে এটা নিছকই একটা দুর্ঘটনা। নাহিদ রানা, তাসকিন-যারা টেস্টে আমাদের নিয়মিত বোলার, শরীফুল, যেহেতু আমাদের সামনের যে টেস্ট সিরিজটা আছে সেটা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ, সেটাকে কিন্তু আমরা সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছি। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টেস্ট ম্যাচটা অতটা প্রাধান্য দিইনি।’

জিম্বাবুয়ে সফরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নাহিদ রানার ওয়ার্কলোড নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানান প্রধান নির্বাচক। তিন ওয়ানডের মধ্যে দুটি এবং তিন টি-টোয়েন্টির মধ্যে দুটি ম্যাচে তাঁকে খেলানো হয়। প্রথম ওয়ানডেতে ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে ওয়ানডেতে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডও গড়েন তিনি।

ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনা নিয়ে সুমন বলেন, ‘আসলে নাহিদ রানা কিন্তু ৩ ওয়ানডের দুইটা খেলেছে, একটাতে খেলেনি। একটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে গিয়ে চোটে পড়েছে। আমার মনে হয় যে তার চোট হয়তো আগেই দেখা দিয়েছিল। এটা এখানে না হলে টেস্ট ম্যাচে হয়ে যেত। তো আমরা কিন্তু যথেষ্ট ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট করি এবং আমাদের যারা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট করে ফাস্ট বোলারদের, তাদের কিন্তু একটা বড় বিল্ডআপ করার ব্যাপার থাকে।’

চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দল ঘোষণাও পিছিয়ে দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক। একই সঙ্গে তিনি জানান, শরীফুল ইসলাম এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন এবং পেসার ইবাদত হোসেন পিতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় তাঁর ফেরাও নির্ভর করছে ভিসা ও পারিবারিক পরিস্থিতির ওপর।

প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘এজন্যই কিন্তু আমরা অপেক্ষা করছি। আমাদের কিন্তু দলটা দিয়ে দেওয়ার কথা ছিল ৫-৬ দিন আগে। আমরা কিন্তু এখন দিতে পারছি না। কারণ, এই চোটের জন্য আমাদের বসে থাকতে হচ্ছে। ইবাদতের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। সে চেষ্টা করছে আগে চলে আসতে। কারণ, ইবাদত আসলে যাওয়ার আগে ভিসা করে যায়নি। তার ভিসার একটা ব্যাপার আছে। যেহেতু সে পিতৃত্বকালীন ছুটিতে আছে, তাই তার পরিবারের একটা ব্যাপার আছে।’

পেসারদের প্রস্তুতি ও ওয়ার্কলোড নিয়ে নিজের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেন প্রধান নির্বাচক। তিনি বলেন, ‘আমিও এ ব্যাপারটা নিয়ে এখন অনেক বেশি পরিষ্কার-সেটা হচ্ছে একজন বোলার যখন টেস্ট ম্যাচ খেলতে যায়, তার যেমন বেশি ওভার ওয়ার্কলোডের দুশ্চিন্তা, যদি কম বোলিং করে সেটাও আসলে দুশ্চিন্তা। নাহিদ রানা, তাসকিন এদের যাওয়ার আগেই কিন্তু কিছু ম্যাচ খেলে যেতেই হতো। নির্দিষ্ট সংখ্যক ওভার বল করতেই হতো। সেটাই কিন্তু যাচাই করে দেখা হয়েছিল। এটা নিছকই একটা দুর্ঘটনা।’

জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজে ইনিংস ও ৮৫ রানে হারলেও তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে দেশে ফিরেছে। তবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে একই ব্যবধানে হারতে হয়েছে টাইগারদের।

আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় টেস্ট ২২ আগস্ট থেকে শুরু ম্যাকেতে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজের আগে নাহিদ রানাসহ পেসারদের চোট ও ফিটনেস পরিস্থিতিই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয়।