সস্তা না ইবাদত উপযোগী, কোন উমরা প্যাকেজ উত্তম?

হজের খরচ আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি। আর তার বিপরীতে উমরা খরচ অনেক কম। সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকার মধ্যে একজন উমরা করতে পারেন। ফলে খরচ বাঁচাতে অনেকেই এখন উমরার দিকে ঝুঁকছেন।

মানুষের উমরা পালনের প্রবণতার প্রেক্ষিতে গড়ে উঠেছে প্রচুর হজ কাফেলা। এসব কাফেলা প্রধানরা তুলনামূলকভাবে কম মূল্যে উমরার প্যাকেজ ঘোষণা করছেন। ফলে দেখা যাচ্ছে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কম টাকার উমরা প্যাকেজের ছড়াছড়ি। হ্যাঁ, কম খরচে উমরা করা অবশ্যই সম্ভব, কিন্তু একটি বিষয় কখনোই ভুলে যাওয়া উচিত নয়- উমরার উদ্দেশ্য হলো ইবাদত, শুধু ভ্রমণ নয়।

অনেক সময় কম মূল্যের অফারের পেছনে এমন কিছু বাস্তবতা থাকে, যা সেখানে পৌঁছানোর পর বোঝা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- মক্কা-মদিনায় হোটেলের অবস্থান।

সাধারণত এসব অফারের প্যাকেজে হোটেল থাকে মসজিদে হারাম ও নববি থেকে ১৫-২০ মিনিট হাঁটার দূরত্বে। মক্কা-মদিনার তীব্র গরম, ভিড় এবং প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত যাতায়াতের বাস্তবতায় এটি অত্যন্ত কষ্টকর।

ফলে অনেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত জামাতের সঙ্গে হারাম শরিফে যেয়ে আদায় করতে পারেন না। এক ওয়াক্ত নামাজ পড়ে হোটেলে ফিরে বিশ্রাম নিলে পরবর্তী ওয়াক্তের জন্য আবার একই পথ পাড়ি দেওয়া অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে যায়। এতে ইবাদতের মনোযোগ ও প্রশান্তি ব্যাহত হয়।
এছাড়া কম দামের অনেক প্যাকেজে দেখা যায়- দীর্ঘ ট্রানজিট বা ক্লান্তিকর ভ্রমণ। মানসম্মত খাবারের অভাব। শেয়ারিং ট্রান্সপোর্টের কারণে অতিরিক্ত অপেক্ষা ও ভোগান্তি। অভিজ্ঞ গাইড ও সার্বক্ষণিক সাপোর্টের ঘাটতি।

এমতাবস্থায় অভিজ্ঞরা পরামর্শ দেন, সস্তা কোনো প্যাকেজ না নিয়ে সত্যিকার অর্থে ইবাদত-উপযোগী উমরার প্যাকেজ নেওয়া। তাতে কিছু টাকা বেশি খরচ হবে, কিন্তু ইবাদত করতে পারবেন আপনি মন ভরে প্রশান্তির সঙ্গে।

উমরা প্যাকেজের প্রকৃত মূল্য শুধু টাকায় নয়, বরং কোন প্যাকেজ আপনাকে কতটা স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করবে- সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ, উমরা একটি ইবাদতের সফর। তাই প্যাকেজ নির্বাচন শুধু দামের ভিত্তিতে নয়, ইবাদতের উপযোগিতার ভিত্তিতে হওয়া দরকার।

উমরার সফরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রস্তুতি। উমরার প্রস্তুতি শুধু ভিসা-টিকিট আর লাগেজেই শেষ নয়। প্রাণবন্ত ও সফল উমরার জন্য শারীরিক প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকেই দীর্ঘদিনের স্বপ্ন নিয়ে মক্কা ও মদিনায় যান। কিন্তু নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস না থাকায় তাওয়াফ, সায়ী কিংবা দীর্ঘ পথ চলার সময় দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ফলে ইবাদতে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়।

কারণ তাওয়াফ, সায়ী ছাড়া পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে হারামে যাতায়াতের প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার হাঁটতে হয়। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস থাকলে ক্লান্তি কম হয় এবং ইবাদতে মনোযোগ বাড়ে।