অবশেষে কাটতে শুরু করেছে গ্যাসের সংকট

অবশেষে কাটতে শুরু করেছে গ্যাসের সংকট। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়া মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি (এফএসআরইউ) মেরামতের পর বুধবার মধ্যরাতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। গতকাল বিকাল থেকে পর্যায়ক্রমে এ টার্মিনাল থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের কথা রয়েছে বলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) এবং রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) কর্তৃপক্ষ।

এর ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাসসংকট কিছুটা কমতে শুরু করেছে। ১০ আগস্ট এফএসআরইউটি স্বাভাবিক অবস্থায় গেলে গ্যাসসংকট পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। এদিকে যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের পর মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে গতকাল বিকালে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এতে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘গ্যাস সঞ্চালন আবার শুরু হবে। এতে যেখানে প্রেশার কমে গিয়েছে সেখানে ধীরে ধীরে প্রেশার উন্নত হবে।’ আরপিজিসিএলের এলএনজি ডিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আগের থেকে অবস্থা কিছুটা ভালো। মেরামতের পর ত্রুটিপূর্ণ এলএনজি টার্মিনালটি এখন আংশিকভাবে চালু করা হয়েছে। গতকাল বিকাল থেকে এফএসআরইউটি থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পুরো সরবরাহ শুরু হবে ১০ আগস্ট। সকালে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও সাগরে অপেক্ষায় থাকা বাড়তি এলএনজিবাহী কার্গো থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় বিকালে তা ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার উৎপাদন ও বিপণন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মো. শহীদুল হক বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের (রাত ৩টার) দিকে এফএসআরইউ থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে এখন এফএসআরইউটি গ্যাস সরবরাহ করছে এবং ক্রমান্বয়ে সরবরাহের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এফএসআরইউটি গ্যাস সরবরাহ শুরুর পর গতকাল সংকট কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোয় গ্যাস নিতে যানবাহনের তেমন চাপ দেখা যায়নি। সাধারণ সময়ের মতো সিএনজিচালিত গাড়িচালকরা গ্যাস নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। স্টেশনগুলোয় গ্যাসের চাপও ভালো ছিল।

মিরপুর ১২ নম্বরের ইন্ট্রাকো সিএনজি পাম্পে এক সপ্তাহ গ্যাস নিতে গাড়িচালকদের যে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায় গতকাল দুপুরে তা ছিল না। মিরপুর দারুস সালাম রোডের যমুনা সিএনজি অ্যান্ড এলপিজি স্টেশনে গতকাল অটোরিকশাচালক রমিজ মিয়া গ্যাস নিতে গিয়ে বলেন, ‘আজ সিএনজি স্টেশনে গাড়ির কোনো লাইন নেই। গ্যাসের চাপও বেশ ভালো। ২৩০ পিএসআই চাপে গ্যাস নিতে পেরেছি। অথচ এক সপ্তাহ আগেও ১০০-১২০ পিএসআই চাপে গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।’ ত্রুটিপূর্ণ এফএসআরইউ থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরুর পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিকের গ্রাহকদের ভোগান্তিও কিছুটা কমেছে।

মিরপুর সি ব্লকের বাসিন্দা হোসনে আরা জানান, এক সপ্তাহ দিনে গ্যাসের চুলা জ্বালাতেই পারেননি। কিন্তু গতকাল সকাল থেকে চাপ কিছুটা বাড়ায় রান্নার কাজ করতে পারছেন। এর আগে ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউটিতে অগ্নিকান্ডের জন্য টার্মিনালটির কার্যক্রম পুরো বন্ধ হয়ে যায়। এতে আমদানীকৃত এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসে। উল্লেখ্য, এলএনজি থেকে ৯৫০ থেকে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।