বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট এটনায় নতুন করে অগ্নুৎপাত শুরু হয়েছে। এতে নির্গত ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে সিসিলির নিকটবর্তী একটি বিমানবন্দরে বিমান চলাচল স্থগিত করতে হয়েছে। শনিবার(৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে কাতানিয়া বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটনার অগ্নুৎপাতের ফলে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়া ছাইয়ের মেঘের কারণে সংশ্লিষ্ট আকাশপথ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা পর্যন্ত কাতানিয়া বিমানবন্দরে সব ধরনের অ্যারাইভাল ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে বর্তমানে বিমানবন্দরে অবস্থানরত বিমানগুলোর উড্ডয়ন বা প্রস্থান স্বাভাবিকভাবে চলছে। কাতানিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি ইতালির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য সিসিলির পূর্বাঞ্চলে সেবা প্রদান করে থাকে।
এটনার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা সংস্থা ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর জিওফিজিক্স অ্যান্ড ভলকানোলজি’-র ওয়েবসাইটের ওয়েবক্যামেও আগ্নেয়গিরির চূড়া থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। ৩,৩২৪ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট এটনা ইউরোপের সর্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এবং গত পাঁচ লাখ বছর ধরে এতে ঘন ঘন অগ্নুৎপাত ঘটে আসছে।
অগ্নুৎপাতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় গত জুলাই মাস থেকেই কঠোর বিধিনিষেধ ও ছাই সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর ফলে পর্যটকদের লাভা প্রবাহ দেখাতে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া গাইডরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কাতানিয়া শহরের কর্তৃপক্ষ আগ্নেয়গিরির লাভা প্রবাহ দেখার ভ্রমণ কার্যক্রম স্থগিত বা সীমিত করে, তখন গাইডরা প্রথমবারের মতো মাউন্ট এটনার লাভা প্রবাহ দেখার প্রবেশপথের সামনে বিক্ষোভ করেন।
তারা নতুন বিধিনিষেধকে অত্যধিক বলে অভিহিত করেন এবং যুক্তি দেন লাভা প্রবাহের গতি অত্যন্ত ধীর হওয়ায় অতীতে যেভাবে নিরাপদ দূরত্ব থেকে তা দেখা হতো, এখনও সেভাবে দেখা সম্ভব। ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর জিওফিজিক্স অ্যান্ড ভলকানোলজি জানুয়ারি মাসে নিশ্চিত করেছিল, মাউন্ট এটনায় অগ্নুৎপাত অব্যাহত থাকলেও লাভার সম্মুখভাগ ঠান্ডা হয়ে আসছে এবং তা আর সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে না।
সূত্র: আলজাজিরা।





