শান্তি আলোচনায় ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন ট্রাম্প

ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি জোরালোভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত কয়েক দশকে ইরানের সমর্থনে বা মদদে পরিচালিত বিভিন্ন হামলা, সংঘাত ও সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাল্টা ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি তুলেছেন তিনি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইরান গত পাঁচ মাসের যুদ্ধে নিজেদের ক্ষতির অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইছে। বিষয়টিকে ‘আকর্ষণীয় ধারণা’ অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রও এখন ইরানের কাছে পাল্টা পাওনা দাবি করবে।

তিনি ২০০০ সালে ইউএসএস কোল যুদ্ধজাহাজে হামলা, রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমার আঘাত, নিহত হাজারো মার্কিন সেনা, গত ৫০ বছরে ইরানে আন্দোলনে নিহতদের পরিবার এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধে প্রাণ হারানো ৫২ হাজার মানুষের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবির কথা জানান। একই সঙ্গে এসব ঘটনার পেছনে প্রয়াত ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানির সংশ্লিষ্টতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ট্রাম্প অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা না চালিয়ে অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার দিকেই তাঁর নজর বেশি। অন্যদিকে, ইরানও তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ ফেরত এবং হরমুজ প্রণালির অবরোধ না তোলা পর্যন্ত তারা প্রণালিটি খুলবে না।

এছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আঞ্চলিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্ভাব্য আলোচনায় নিষেধাজ্ঞা, ক্ষতিপূরণ ও হরমুজ প্রণালির বিষয়টিই প্রধান বিবেচ্য হয়ে উঠবে।