পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন গোবিন্দ

বলিউডের ৯০-এর দশকের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় অভিনেতা গোবিন্দ এবং তার স্ত্রী সুনীতা আহুজার দাম্পত্যজীবন সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে বহুবার। বিশেষ করে বিভিন্ন সময়ে একাধিক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে গোবিন্দর প্রেমের সম্পর্ক ও পরকীয়া নিয়ে সুনীতার খোলাখুলি বক্তব্য বিনোদনপাড়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নব্বইয়ের দশকে এক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে গোবিন্দর পরকীয়া জড়ানোর অভিযোগ তুলেছিলেন তার স্ত্রী। দীর্ঘদিনের এসব গুঞ্জন ও স্ত্রীর মন্তব্যের জবাবে অবশেষে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর কাছে মুখ খুলেছেন এই বলিউড তারকা।

বক্তব্যে স্ত্রীর অভিযোগের বিষয়ে প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি সাফল্য ও মনোযোগ পাওয়ার জন্য নিজের মানুষকে নিয়ে প্রকাশ্যে কটু কথা বলার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে গোবিন্দ স্বীকার করেন যে, সুনীতা অতীতেও তার বিরুদ্ধে এ ধরনের কথা বলেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি এও স্মরণ করিয়ে দেন, তিনি যখন কাজের ব্যস্ততায় ঘরের বাইরে থাকতেন, তখন সুনীতা একাই পরিবারের সব দায়িত্ব সামলেছেন এবং সন্তান ও আত্মীয়দের বড় করে তুলেছেন। স্ত্রীকে কৃতিত্ব দিয়ে গোবিন্দ বলেন, সে আমাকে অনেক ভালোবাসা থেকেই গালমন্দ করে, আর আমিও তা ভালোবাসার সঙ্গেই মেনে নিই। আমার মনে হয়, ওপরওয়ালা যাকে যে স্থানে বসিয়েছেন এবং যে ভূমিকা দিয়েছেন, তারা না থাকলে আমরা আজকের এই সফল জায়গায় পৌঁছাতে পারতাম না। আমাদের পরিবারের অনেক সন্তান আজ বড় হয়েছে, তাদের ওপর সুনীতার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং সে তাদের প্রতি সব সময়ই সদয় ছিল।

নিজের বিষয়ে স্ত্রীর এমন মন্তব্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গোবিন্দ ইঙ্গিত দেন যে, জনসমক্ষে এসব কথা বলার পর থেকেই সুনীতা সবার নজর কাড়তে শুরু করেছেন। গোবিন্দ বলেন, অনেক বিষয় অধরা থেকে যায়—যা কখনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। যদি আমি বাইরে থেকে শুধু সেই বিষয়গুলোর একটি আভাস দিই, তবে কি দূরত্ব তৈরি করতে এভাবে মিথ্যা কলঙ্ক লেপন করার সত্যি কোনো প্রয়োজন ছিল? মানুষ প্রায়ই এটাকে একটা পালানোর পথ হিসেবে দেখে। সফলতা পাওয়ার জন্য নিজের মানুষদের সম্পর্কে খারাপ কথা বলা কি সত্যিই খুব জরুরি? এটা করা কিছুটা সহজ। তবে সুনীতা তা কৌশলগতভাবেই করে। সে হয়তো দুটি ভালো কথা বা প্রশংসা করে, আর তারপর একটি সমালোচনা ছুড়ে দেয়। আমি এর মধ্যে ভালোবাসাই বেশি দেখতে পাই।

অভিনয়জীবনের সেই সোনালি দিনগুলোতে সহ-অভিনেত্রীদের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের রসায়ন নিয়ে বলতে গিয়ে গোবিন্দ জানান, সহ-অভিনেত্রীদের সঙ্গে তার চমৎকার বোঝাপড়া ও ভালোবাসার সম্পর্কের কারণেই তখন গানগুলো এতটা সফল হতো। শ্রীকৃষ্ণের নামানুসারে তার নাম ‘গোবিন্দ’ রাখা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি তার প্রয়াত মা নির্মলা দেবীর একটি উপদেশের কথা স্মরণ করেন। তার মা সব সময় বলতেন, নাম যেহেতু গোবিন্দ, তাই চারপাশে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে সব সময় হাসিখুশি থাকতে ও জীবনকে উপভোগ করতে হবে। সুনীতার অভিযোগ প্রসঙ্গে মায়ের একটি মন্তব্যের স্মৃতিচারণ করে গোবিন্দ বলেন, সুনীতা যখনই আমাকে কিছু বলত, আমার মা বলতেন—‘সুনীতা, তোমার কারণেই সে শুটিং শেষ করে অন্য কোনো নায়িকার সঙ্গে দেখা না করে সরাসরি বাড়ি ফিরে আসে।’

পরকীয়া বা দাম্পত্যে বিশ্বস্ততার বিষয়টি টেনে এনে ‘পার্টনার’ খ্যাত এই অভিনেতা বলেন, বিবাহিত হলেই যে মানুষ অন্য কারও সঙ্গে প্রেমে জড়াবে না—এমনটি নয়। তিনি রসিকতা ও প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতের সুর মিলিয়ে বলেন, ৩৪ বছর বয়স পর্যন্ত আমি এতই নিষ্পাপ ছিলাম যে এখন ভেবে নিজেরই লজ্জা লাগে। আপনি মিষ্টির দোকানে অবস্থান করেও যদি খালি পেটে বের হয়ে আসেন, তবে তা বড়ই দুঃখজনক। তিনি যোগ করেন, পুরুষরা মাঝেমধ্যে এমন কিছু বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে যা পরবর্তীতে তাদের অনুশোচনার কারণ হয়, আর নারীরা পরিবারের কথা ভেবে শক্ত অবস্থান নিতে পারেন। ২১ থেকে ৩৪ বছর বয়সের মধ্যে তার জীবনে কী ঘটে যাচ্ছিল, তা বুঝতে তার বহু বছর সময় লেগেছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে গোবিন্দ জোর দিয়ে দাবি করেন, তৎকালীন জনপ্রিয় সব নায়িকাদের সঙ্গে তার সম্পর্কের ভিত্তি ছিল নিছকই গাঢ় ভালোবাসা ও সম্মান। গোবিন্দ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, আপনি আমার যেকোনো নায়িকার সঙ্গে দেখা করে দেখতে পারেন। অন্য কোনো নায়কের কথা জিজ্ঞেস করলে তারা হয়তো লাজুক হেসে বলবে—‘হ্যাঁ, উনি আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন।’ কিন্তু যখন আমার কথা জিজ্ঞেস করবেন, তখন তাদের চোখ দিয়ে ভালোবাসার জল গড়িয়ে পড়বে। একজন নারীর চোখের এই ভালোবাসার জল কখনো কেনা যায় না, এটি অন্তরের গভীর থেকে আসে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন গোবিন্দ ও সুনীতা আহুজা, যখন গোবিন্দ ইতিমধ্যেই বলিউডে নিজের অবস্থান শক্ত করে ফেলেছেন। ক্যারিয়ারের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় প্রায় দুই বছর তারা নিজেদের বিয়ের খবর গোপন রেখেছিলেন। পরবর্তীতে তাদের প্রথম কন্যাসন্তান টিনা আহুজা জন্ম নেওয়ার পর তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের কথা প্রকাশ করেন। এই দম্পতির ইয়াশবর্ধন আহুজা নামে এক ছেলেসন্তানও রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি