ফলাফল নিয়ে ভাবিনি, নিজের কাজ করে গেছি: হাসান

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারাল বাংলাদেশ। সেই জয়টাও এসেছে নয় উইকেটে। টানা ১১টি সেশন অস্ট্রেলিয়াকে ডমিনেট করে। টেস্টের আগে আলোচনা ছিল বাংলাদেশ এই টেস্ট তৃতীয় দিনে নিয়ে যেতে পারবে কি না, তা নিয়ে! টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান এক নম্বরে, আর বাংলাদেশ নয়ে। এমন আলোচনা–সমীকরণের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেট হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ।

ঐতিহাসিক এই জয়ে ম্যাচ শেষে সাফল্যের রহস্য শোনালেন জয়ের বড় কারিগর হাসান মাহমুদ।

ডারউইনে প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে কোণঠাসা করে দিয়েছিল বাংলাদেশ। যার মূল কৃতিত্ব হাসানের। মাত্র ৫৫ রানে তিনি ৬ উইকেট নিলে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে পায়নি স্বাগতিকরা।

পরে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেওয়ার কাজটি করেন হাসান। সব মিলিয়ে ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় জয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ পুরস্কার জিতেছেন ২৬ বছর বয়সী এই পেসার।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার গ্রহণ করে তিনি বললেন, ফলাফল নিয়ে না ভেবে প্রক্রিয়া ঠিক রাখার পুরস্কারই পেয়েছে পুরো দল।

“ম্যাচের আগে অনুশীলনে আমরা প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মাথায় একটা বিষয়ই ছিল- যাই হোক না কেন, নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে হবে, প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ফলাফল নিয়ে ভাবা যাবে না। পাঁচ দিন খেলতে হবে, তারপরই ফলাফল আসবে।”
তবে পাঁচ দিন খেলতে হয়নি বাংলাদেশের। সাড়ে তিন দিন ও ১১ সেশনের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাঠে হারিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। এর পেছনে টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে মিলে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনার অবদানের কথা বললেন হাসান।

“দলের খেলোয়াড় ও কোচদের সঙ্গে বসে আমরা কিছু দলীয় পরিকল্পনা করেছি। ভিডিও দেখেছি, আমরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, সেগুলো বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা করেছি। এরপর মাঠেও ঠিক সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছি।”

ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম দিন উইকেট থেকে পেসাররা পেয়েছেন কিছু সুবিধা। যা কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেটের সবকটিই নেন হাসান মাহমুদ (৬), তাসকিন আহমেদ (২) ও ইবাদত হোসেন চৌধুরি (২)।

তবে উইকেটে সুবিধা থাকলেও, তা যথাযথ কাজে লাগানোয় বোলারদের প্রশংসাই করলেন ২৬ বছর বয়সী পেসার।

“প্রত্যেক বোলারই দারুণ ধৈর্য দেখিয়েছে। যে প্রক্রিয়াটা অনুসরণ করার কথা ছিল, সেটাই করেছে। শুধু সঠিক লাইন ও লেংথে বল করে যেতে হবে এবং একই জায়গায় আঘাত করে যেতে হবে- শেষ পর্যন্ত তার ফলাফল এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি।”

এসময় সমর্থকদের আনন্দের কথাও বলেন হাসান।

তিনি বলেন, “অবশ্যই তারা (বাংলাদেশের সমর্থকরা) আমার জন্য খুব খুশি হবে। আমার শহরের মানুষজনও নিশ্চয়ই খুব খুশি হবে। আমি বাংলাদেশে ফেরার পর তারা উদযাপন করবে।”