ঢাকার ডেমরার সারুলিয়া থেকে দুটি হাতবোমাসহ নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে পালানো ‘জঙ্গি’ জুয়েল ভুঁইয়া ওরফে ‘ওস্তাদকে’ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, তিনি নব্য জেএমবির আলোচিত বোমা তৈরির কারিগর নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুনের’ ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে ডেমরার সারুলিয়া এলাকার পশ্চিম নিঝুমবাগে পুলিশ ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) যৌথ অভিযানে জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার অবস্থান করা বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুটি হাতে তৈরি বোমা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা বোমা দুটি পরে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট নিষ্ক্রিয় করে।
ডিএমপির ডেমরা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহসিন মাসুদ বলেন, বোমারু মামুনের সহযোগী হিসেবে সন্দেহভাজন জুয়েল ওই এলাকায় অবস্থান করছেন, এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও এটিইউ যৌথভাবে অভিযান চালায়। অভিযানে দুটি হাতে তৈরি বোমা উদ্ধার এবং জুয়েলকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, জুয়েলের বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কাজীরচর এলাকায়। জঙ্গি নেটওয়ার্কে তার কোডনেম ‘ওস্তাদ’ বলে জানা গেছে।
সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সদস্য সন্দেহে ২০২৩ সালে এটিইউ জুয়েলকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্য বন্দিদের সঙ্গে তিনিও পালিয়ে যান।
ওই ঘটনায় নয়জন জঙ্গিসহ মোট ৮২৬ বন্দি কারাগার থেকে পালিয়ে যান। কারাগারের অস্ত্রাগার ও কারারক্ষীদের কাছ থেকে ৮৫টি অস্ত্র ও ৮ হাজার ১৫০টি গুলি লুট হয়। পালানোর ছয় দিন পর ২৫ জুলাই জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে নরসিংদী জেলা পুলিশ। পরে তাকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশের দাবি, কাশিমপুর কারাগারে থাকাকালে বোমারু মামুনের সঙ্গে জুয়েলের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সরকার পতনের পর সেপ্টেম্বরে তিনি মামুনসহ অন্যদের সঙ্গে জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় বোমারু মামুন ও তার সহযোগীদের ধরতে অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মামুনের অন্যতম সহযোগী আরিফ ওরফে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরে একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে পাইপ বোমা, বোমা তৈরির রাসায়নিক ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, সাম্প্রতিক কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ ও বোমা উদ্ধারের ঘটনায় মামুন ও তার সহযোগীদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ, যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের ওপর ছুরিকাঘাত করে বোমার ব্যাগ ফেলে পালানো, কুমিল্লার একটি মন্দিরে বিস্ফোরণ এবং সায়েদাবাদে তল্লাশির সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও রয়েছে।
পুলিশ বলছে, নব্য জেএমবির বোমা তৈরির কারিগর হিসেবে চিহ্নিত মামুন এখনো পলাতক। তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তার জুয়েল ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে কতটি মামলা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।





