প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারে নতুনভাবে যুক্ত হলেন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী। গতকাল সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁদের শপথ পড়ান। এ নিয়ে তারেক রহমান সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়াল ৫০। এর মধ্যে মন্ত্রী রয়েছেন ২৬ জন আর প্রতিমন্ত্রী ২৪। এর বাইরে উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন ১০ জন। যা বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম মন্ত্রিসভা। সর্বোচ্চ ৬১ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায়। খালেদা জিয়ার তৃতীয় সরকারে ছিলেন ৬০ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। গতকাল নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান (বিজেপি) ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। হুমায়ুন কবির টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। এ ছাড়া বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হয়েছেন। তিনি জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সঞ্চালনায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে এই শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর পরপরই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথবাক্য পাঠ করেন। রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করান।
কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন : নতুন শপথ নেওয়া চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও একটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দপ্তর বদল করা হয়েছে। গতকাল মধ্যরাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। রুলস অব বিজনেস অনুসারে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব বণ্টন করেছেন বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়। এর আগে সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করান নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রথমে রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। এরপর তিনি নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করান। শপথ নেওয়া নতুন চার মন্ত্রী হলেন আবদুল মঈন খান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সাচিং প্রু জেরী ও আন্দালিভ রহমান পার্থ। এর মধ্যে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। নতুন দুই প্রতিমন্ত্রী হলেন হুমায়ুন কবির (টেকনোক্র্যাট) ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার (লিংকন)।
নতুন রদবদলের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শূন্যপদে আবদুল মঈন খান দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েছেন। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। নতুন শপথ নেওয়া শামীম কায়সার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এ মন্ত্রণালয়ে আগে থেকেই মন্ত্রী হিসেবে আছেন কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
নতুন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আগে থেকে এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শামা ওবায়েদ ইসলামও আগের পদে থাকবেন। অর্থাৎ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন খলিলুর রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার। সেদিন প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। মন্ত্রীদের মধ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ পরে স্পিকারের দায়িত্ব পান। আর প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে কায়সার কামাল গত মার্চে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পান। হাফিজ উদ্দিনের জায়গায় মন্ত্রিসভায় আসেন আহমেদ আযম খান। আর ১ জুন পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
তৃতীয় বৃহত্তম মন্ত্রীসভা : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদও শূন্য হয়। আর গতকাল রদবদলে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়লেন জহির উদ্দিন স্বপন। তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে তারেক রহমানের সরকারে মন্ত্রীর সংখ্যা হলো ২৬ আর প্রতিমন্ত্রী থাকলেন ২৪ জন। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা ছিলেন। তাঁদের পাঁচজন মন্ত্রী এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁদের মধ্যে হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রী এবং জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রী থেকে উপদেষ্টা হলেন। ফলে উপদেষ্টার সংখ্যায় কোনো পরিবর্তন হলো না।





