রাজনীতিবিদ হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পুরো দেশ চিনলেও, তাঁর জীবনের এমন এক অতীত রয়েছে যা অনেকেরই সম্পূর্ণ অজানা। রাজনীতির ময়দানে শক্ত অবস্থান তৈরি করার বহু আগে, তিনি ছিলেন মঞ্চের নায়ক। সুঠাম সুন্দর ভরাট কণ্ঠ দিয়ে দর্শকদের করতালি আর প্রশংসায় ভাসাতেন তিনি।
বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা, কাহিনীকার ও চিত্রনাট্যকার ছটকু আহমেদ সম্প্রতি সামনে এনেছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতির জীবনের সেই সোনালী অতীত। কেমন ছিল মির্জা ফখরুলের সেই নাট্যজীবন? কীভাবে শুরু হয়েছিল ছটকু আহমেদের সাথে পরিচয়?
নির্মাতা ছটকু আহমেদ নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ১৯৭২-৭৩ সালে ঠাকুরগাঁও ইরিগেশন বিভাগে চাকরি করার সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়।
প্রতিদিন বিকেলে ওয়াপদা সরকারি কলোনি থেকে বের হয়ে তাঁরা যেতেন পাবলিক লাইব্রেরিতে। সেখানে জমে উঠত তরুণ ফখরুল ও স্থানীয়দের আড্ডা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। ঢাকার প্রখ্যাত অভিনেত্রী আনোয়ারার ছোট বোন নার্গিসকে সাথে নিয়ে তৎকালীন ‘বলাকা সিনেমা হলে’ নাটক করার স্মৃতিও উঠে আসে ছটকু আহমেদের লেখায়।
মির্জা ফখরুলের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে ছটকু আহমেদ লেখেন, সুঠাম সুন্দর ভরাট কণ্ঠের অধিকারী আলমগীর সাহেব নাটকের নায়কের অভিনয় করতেন এবং দুর্দান্ত আবৃত্তি করতেন। তাঁর পারফর্মেন্সে পুরো হল রুম হাততালিতে ফেটে পড়তো।
চাকরির সুবাদে ছটকু আহমেদ ঢাকায় চলে এলেও এই সাংস্কৃতিক মেধা ও ব্যক্তিত্ব মির্জা ফখরুলকে রাজনীতির ময়দানেও এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
বহু বছর পর ঢাকার গুলশানে আবার দেখা হয় দুজনের, ততদিনে রাজনীতিতে নাম কুড়িয়ে মন্ত্রী হয়েছেন মির্জা ফখরুল। পরবর্তীতে জিয়া শিশু একাডেমির এক অনুষ্ঠানে যখন ফখরুল বিএনপির মহাসচিব, তখন ছটকু আহমেদকে সামনে দেখে জড়িয়ে ধরে স্টেজে ডেকে নেন এবং বিশেষ সম্মাননা ‘কমল পদক’ তুলে দেন।
এমনকি সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও নাট্যসমিতির এক অনুষ্ঠানেও মির্জা ফখরুল ছটকু আহমেদের কথা স্মরণ করেছিলেন, যা প্রমাণ করে অতীতের প্রতি তাঁর গভীর সম্মানবোধ।





