ঢাকায় হামজা ও ভিনিসাসের লড়াই। অর্থাৎ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল খেলবে বাংলাদেশের বিপক্ষে। এ তো কখনো স্বপ্নেও ভাবা যায়নি। বাংলাদেশ অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। কখনো কোনো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে মুখোমুখি হয়নি। হওয়ার কথাও নয়, কেননা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা কোন যুক্তিতে ফুটবলে অন্যতম দুর্বল দেশের বিপক্ষে খেলবে। অতীতে যাই ঘটুক না কেন, এবার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলে সর্বোচ্চ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ঢাকাতেই বাংলাদেশ জাতীয় দলের বিপক্ষে খেলতে চায়। আর এই প্রস্তাবটি এসেছে ব্রাজিলের পক্ষ থেকে। রবিবার ব্রাজিনীয় ফুটবল ফেডারেশনের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় এসে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারিনা পরিদর্শন করে গেছেন।
৩ অক্টোবর কলকাতায় ব্রাজিল ফুটবল দলের ভারতের মুখোমুখি হওয়ার কথা। কিন্তু হঠাৎ করে ব্রাজিলের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের প্রধান দুই ভেন্যু পরিদর্শন করায় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নানা কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকে বলছেন, ব্রাজিলীয় ফুটবল প্রতিনিধিদের এ সফর আগেই নির্ধারণ ছিল। বাফুফে তা গোপন রেখেছিল। প্রতিবেশী দেশে যখন খেলতে আসছে তখন ব্রাজিলকে ঢাকায় খেলানো যায় কি না তা নিয়ে চেষ্টা করা হচ্ছিল। বাংলাদেশে অসংখ্য ব্রাজিলের সমর্থক আছে। বিশ্বকাপ এলে ফুটবলপ্রেমীরা হলুদ জার্সিতে মেতে ওঠে। স্বাভাবিকভাবে দেশটির বাংলাদেশ নিয়ে আলাদা আগ্রহ রয়েছে। তাই তারা সল্টলেক স্টেডিয়াম, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেখার পর ঢাকায় ছুটে আসেন। ঢাকা স্টেডিয়াম দেখে যেমন সন্তুষ্ট হন, তেমনই বসুন্ধরা কিংস অ্যারিনা ও বসুন্ধরা সিটির বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা দেখে মুগ্ধ হন ব্রাজিলের প্রতিনিধিরা। দুই ভেন্যু দেখে প্রতিনিধি দল বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পরই বাফুফের এক সহসভাপতি বলেছেন ব্রাজিল আমাদের সুযোগসুবিধা দেখে বড্ড খুশি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ঢাকায় খেলতে চায় বাংলাদেশের বিপক্ষে। প্রস্তাবিত তারিখ হিসেবে অক্টোবর ৫ ও ৬-এর কথা বলে গেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে-ব্রাজিল সত্যিই ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করলে বাফুফে থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এল না কেন? এ তো বিশাল প্রাপ্তি। কোনো আমন্ত্রণ নয়, ব্রাজিল নিজ থেকেই বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে রাজি হয়েছে।
আসলে ঘটনাটি তেমন নয়, ব্রাজিলের প্রতিনিধিরা ঢাকা স্টেডিয়াম ও কিংস অ্যারিনা দেখে সন্তুষ্ট, তা তারা তাবিথকে জানিয়েছেন। এখন তারা খেলতে আসবেন, না অনুশীলন করবেন তা নির্ভর করবে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন ও সে দেশের সরকারের অনুমতির ওপর। তবে এটা ঠিক, ভারতে খেলার পর ব্রাজিল ঢাকায় খেলবে কি না তা আলোচনায় রয়েছে। চূড়ান্ত কিছুই হয়নি। ব্রাজিলকে খেলানো তো চাট্টিখানি কথা নয়। এখানে বিশাল অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। তা ছাড়া বাংলাদেশ সরকারের অনুমতিও দরকার।
সংবাদ সম্মেলন করে কোনো কর্মকর্তা এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেছে বাফুফে। মিডিয়া ম্যানেজার সাকিব সাদমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্রাজিলীয় প্রতিনিধিরা দুই ভেন্যু দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে নিরাপত্তা গেটের অবকাঠামো নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলেছেন। সবকিছু নিয়েই তারা তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা যা দেখে গেছেন তা ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনকে রিপোর্ট দেবেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে দুই দেশের যোগাযোগ হবে এবং সভাও করবে। এদিকে আবার নির্বাহী কমিটির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন সাংবাদিকদের জানান, ‘বাফুফের সভাপতির সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। দুই ফেডারেশন সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করবে। ব্রাজিল ৬ অক্টোবর ঢাকায় খেলতে রাজি হয়েছে।’ অথচ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্রাজিল প্রতিনিধি দল তাদের ফেডারেশনকে রিপোর্ট করার পরই দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে। এখানেই তো খটকাটা লাগে, প্রতিনিধিরা ঢাকায় খেলার কথা চূড়ান্ত করে গেছেন কি না? ধরলাম প্রতিপক্ষ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বলেই বাফুফে খেলতে রাজি হয়ে গেল। তার পরও তো সমস্যা থেকে যাচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয় দল ইন্দোনেশিয়ায় আসিয়ান কাপ খেলতে যাবে। ফিকশ্চার চূড়ান্ত না হলেও বাংলাদেশ খেলবে ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। সম্ভবত বাংলাদেশের গ্রুপের শেষ খেলা ৩ অক্টোবর। এ অবস্থায় ক্লান্তি নিয়ে বাংলাদেশ কি ৬ অক্টোবর খেলতে পারবে? ব্রাজিলের বিপক্ষে ফল কি হবে তা অনেকেরই জানা। তাই হামজাদের খেলার সম্ভাবনাই বেশি।
হাজার হাজার দর্শক মুখিয়ে আছেন এ লড়াই দেখতে। ২০১১ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ঢাকায় খেলে গেলেও মেসিদের প্রতিপক্ষ ছিল নাইজেরিয়া। সেখানে ব্রাজিল বাংলাদেশের বিপক্ষে খেললে তা হবে ইতিহাস। কেমন খেলবেন হামজা-রাকিবরা। ভিনিসাসদের নিজ চোখে দেখা, আহ্! একসঙ্গে কত না স্বপ্ন পূরণ। কিন্তু এ অপেক্ষার অবসান ঘটবে কবে, এটাই বড় প্রশ্ন।





