ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যের প্রতিটি পরিবার গড়ে ২,৪০০ পাউন্ডের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। বিট্রিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ’ (সিইবিআর)-এর বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
এতে বলা হয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং মজুরি বৃদ্ধির ধীরগতির কারণে চলতি বছরের যুক্তরাজ্যের গড় পরিবারের প্রকৃত আয় ১,১০০ পাউন্ড কমে যাবে এবং ২০২৭ সালে আরও ১,৩০০ পাউন্ড হ্রাস পাবে।
অর্থনৈতিক পরামর্শক সংস্থা সিইবিআর-এর তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের ফলে যুক্তরাজ্যের পরিবারগুলোর প্রকৃত ব্যয়যোগ্য আয় থেকে মোট ৭০.৪ বিলিয়ন পাউন্ড কমে যাবে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ধাক্কা দুটি উপায়ে যুক্তরাজ্যের পরিবারগুলোর ওপর প্রভাব ফেলছে।
সিইবিআর-এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ লিয়াম ডেলি বলেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য সরাসরি বিল এবং অন্যান্য প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, ফলে আয়ের প্রতিটি পাউন্ড দিয়ে আগের চেয়ে কম পণ্য বা সেবা কেনা যায়। ডেলি আরও বলেন, পরোক্ষ প্রভাবটি ধীরগতির হলেও সমান গুরুত্বপূর্ণ; এটি মূলত মুদ্রানীতি এবং শ্রমবাজারের মধ্য দিয়ে কাজ করে।
তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে ধারণা করা হয়েছিল, ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড এ বছর সুদের হার কমাবে। কিন্তু বাস্তবে ঋণের খরচ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং ‘সিটি’র (লন্ডনের আর্থিক খাতের) ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার একবার বাড়ানো হতে পারে।
জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার ফলে প্রকৃত আয়ের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হবে, তা পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ডেলি বলেন, হাজার হাজার মাইল দূরে সংঘটিত একটি সংঘাত যুক্তরাজ্যের পরিবারগুলোর ওপর প্রভাব ফেলছে। সাপ্তাহিক কেনাকাটা, জ্বালানি তেল কেনা এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল পরিশোধের সময় প্রকৃত আয় হ্রাসের বিষয়টি অনুভূত হচ্ছে। জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অফজেম’ তাদের ত্রৈমাসিক মূল্যসীমা ৪ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় গ্রেট ব্রিটেনজুড়ে অক্টোবর মাসে জ্বালানি বিল বাড়তে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে থিংক-ট্যাঙ্ক ‘এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ হিসাব করে দেখেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেল ও গ্যাসের পাইকারি দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের জ্বালানি ও সড়ক পরিবহন খাতে আনুমানিক ৯.৮ বিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত খরচ হবে।
ইসিআইইউ-এর তথ্যমতে, সংঘাত চলাকালীন প্রতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের গ্যাস ও বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অতিরিক্ত ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করতে হবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।





