আগস্টের এক মেঘলা দিনে শুরু হয়েছিল গল্পটি। ২১ বছর পর সেই আগস্টের এক রাঙা সকালে সেই গল্পের প্রদীপটি নিভল।
কিংবদন্তি লিওনেল আন্দ্রেস মেসি-আর্জেন্টিনার ফুটবলের সমার্থক হয়ে ওঠা নামটি অবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চ থেকে বিদায় নিলেন। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে বদলি হিসেবে অভিষেক হয়েছিল মেসির। অভিষেক বর্ণিল ও রঙিন ছিল না। মাত্র ১৮ বছর বয়সে এক বিতর্কিত লাল কার্ডে শুরু হয়েছিল তাঁর রূপকথার আন্তর্জাতিক যাত্রা। ২০২৬ সালের ৩১ আগস্টে এসে সেই বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো এক বেদনাবিধুর তবে রাজকীয় সমাপ্তিতে। আগস্টে শুরু, আগস্টেই শেষ-এ যেন এক নিখুঁত কাব্যিক ছন্দে বাঁধা বিশ্বজয়ী অধিনায়কের মহাকাব্যিক পথচলা। মাঝে কেটে গেছে ২১টি বছর। আক্ষেপ, কাতার বিশ্বকাপের সেই সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরা এবং অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে আন্তর্জাতিক মঞ্চ খালি করার অবিশ্বাস্য এক লম্বা সফর। বিশ্বকাপের ফাইনাল হারের কষ্ট ও বাবা হোর্হে মেসির মহাপ্রস্থানের পর এ বিদায় আরও করুণ ও সুনির্দিষ্ট হয়ে ওঠে। আবেগঘন বার্তায় ৩৯ বছর বয়সি এ জাদুকর বলেন, ‘আমি আমার সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি, হৃদয় দিয়ে ভালোবাসি এ শার্টটিকে। তবে এবার নতুন প্রজন্মের কাছে ব্যাটন হস্তান্তরের সময়।’ আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা ১০ নম্বর জার্সিতে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার এবং গোলের রেকর্ডের মালিক মেসি। ২০৭টি ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশের জার্সিতে ১২৫টি গোল করেছেন মেসি। তার চেয়ে বেশি গোল শুধুমাত্র ‘সিআর সেভেন’ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর, ২৩৩ ম্যাচে ১৪৬টি। মেসি তার ক্যারিয়ারে ১১ হ্যাটট্রিকের সঙ্গে ৬৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন। সব মিলিয়ে গোল বা অ্যাসিস্টে আর্জেন্টিনার ১৯৩টি গোলের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন মেসি। পরিসংখ্যান হয়তো শুধুই একটি সংখ্যা নির্দেশ করে, কিন্তু এ আগস্ট থেকে আগস্টের বৃত্তে বাঁধা ২১ বছরের জাদুকরী স্মৃতি ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে খোদাই হয়ে থাকবে চিরকাল। কেননা, এ কিংবদন্তি জিতেছেন একটি বিশ্বকাপ (২০২২), ও দুটি কোপা আমেরিকার ট্রফি (২০২১ ও ২০২৪)। লিওনেল মেসির জন্ম আর্জেন্টিনার ছোট একটি শহর রোজারিওতে। মাত্র ৮ বছর বয়সে তিনি চলে আসেন স্পেনের বার্সেলোনায়।
অসাধারণ প্রতিভাবান মেসি ভর্তি হন বার্সেলোনা ফুটবল একাডেমিতে। সেখানে সতীর্থ হিসেবে পান ইনিয়েস্তা, জাভির মতো ফুটবল তারকাকে। তাদের সঙ্গে একাডেমিতে খেলে নিজেকে শানিত করেন। বার্সেলোনার মূল খেলে মেসি সঙ্গী হিসেবে পান ব্রাজিলের কিংবদন্তির ফুটবলার রোনালদিনহোকে।
তাঁর সান্নিধ্যে নিজেকে সেরাদের সেরা বানিয়ে নেন। সুযোগ পাওয়ার পর দিয়াগোর ম্যারাডোনার ব্যাটন নিজে হাতে নিয়ে একাই টেনে নিয়ে যান আর্জেন্টিনাকে। তাঁর শৈল্পিক ফুটবলে আর্জেন্টিনা ২০১৪, ২০২২ ও ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলে। ২০২২ সালে চ্যাম্পিয়ন ও ২০১৪ ও ২০২৬ সালে রানার্সআপ হন। তিনি বিশ্বকাপের প্রথম ফুটবলার যিনি ২০১৪ ও ২০২২ সালে গোল্ডেন বল জিতেছেন। তিনি ২০০৮ সালে অলিম্পিক সোনা, ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা কাপ জিতেন। ২০২২ সালে ফিনিলিসিমা কাপও জিতেছে আলবিসেলেস্তারা।
৩১ আগস্ট ইনস্টাগ্রামে আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় ইতি টানেন বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের।





