সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমাল সরকার

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আগে অনুমোদন পাওয়া ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের জন্য সুগন্ধি চাল রপ্তানির বরাদ্দ অর্ধেক করে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই অনুমোদনের মেয়াদ থাকবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগে অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবে না কোনো প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে রপ্তানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি ও রপ্তানি আয় দেশে ফেরত আনা নিশ্চিত করতে ১০টি শর্ত দেওয়া হয়েছে।

শর্ত অনুযায়ী, রপ্তানিকারকদের রপ্তানি নীতি ২০২৪–২৭-এর বিধান অনুসরণ করতে হবে। প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে। চালান জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।

ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের জন্য আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রপ্তানি করা যাবে না।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় সুগন্ধি চালের সর্বনিম্ন রপ্তানিমূল্য প্রতি কেজি ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্য এফওবি (জাহাজে তোলার পর্যায় পর্যন্ত) ভিত্তিতে প্রযোজ্য হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, রপ্তানির অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য। ফলে সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই চাল রপ্তানি করা যাবে না। জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে।

এ ছাড়া রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে প্রসিডস রিয়েলাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি) দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে চলতি বছরের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মাত্র ২ হাজার ৪১৯ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পেরেছে।

সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এ কারণে সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানির পরিমাণ, মূল্য, নথিপত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা দেশে ফেরত আনার বিষয়ে কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তে সুগন্ধি চালের রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। বরং খাদ্যনিরাপত্তা ও বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিতভাবে রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যেই কোটা কমানো হয়েছে।