‘কেজিএফ’ ফ্রাঞ্চাইজি দিয়ে রাতারাতি প্যান-ইন্ডিয়া সুপারস্টার বনে যান কন্নড় অভিনেতা যশ। এ তারকার পরবর্তী সিনেমা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই দর্শকমহলে ছিল ব্যাপক উন্মাদনা। যার প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ে ‘টক্সিক’-এর প্রথম দিনের আয়ে। কিন্তু দ্বিতীয় দিন থেকেই ছবিটির আয়ে বড়সড় ধস নামে। অবশেষে প্রায় শেষ হয়েছে ‘টক্সিক’-এর প্রেক্ষাগৃহযাত্রা।
শেষ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ৩১২ কোটি ৫০ লাখ রুপি। বিপরীতে ছবিটির লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি রুপি বলে দাবি করা হয়েছে।
ভারতীয় বক্স অফিসে ‘টক্সিক’ আয় করেছে ২৬৬ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। এর বাইরে বিদেশের বাজার থেকে এসেছে ৪৮ লাখ মার্কিন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৪৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় ৩১২ কোটি ৫০ লাখ রুপি।
তবে ছবিটির বক্স অফিসযাত্রা কার্যত প্রথম সপ্তাহেই থেমে যায়। মুক্তির প্রথম দিন ভারতে ১১২ কোটি রুপি আয় করে বড়সড় সূচনা করেছিল ‘টক্সিক’। কিন্তু দর্শকের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার প্রভাব পড়ে দ্বিতীয় দিন থেকেই। এরপর সপ্তাহের কর্মদিবসগুলোতে ছবিটির আয় আরও তলানিতে নেমে যায়।
মুক্তির বর্ধিত প্রথম সপ্তাহে ভারতে ছবিটির আয় হয় ২৫৬ কোটি রুপি। দ্বিতীয় সপ্তাহেই অধিকাংশ প্রেক্ষাগৃহ থেকে সরে যায় সিনেমাটি। ফলে ওই সপ্তাহে আয় নেমে আসে মাত্র ৯ কোটি রুপিতে। তৃতীয় সপ্তাহান্তে ছবিটির আয় ৭৫ লাখ রুপির কিছু বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যার প্রায় পুরোটাই আসছে কর্ণাটক থেকে।
বক্স অফিসের হতাশাজনক ফলাফলের চেয়েও ছবিটির আর্থিক ক্ষতির হিসাব আরও বড়।
এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘টক্সিক’-এর লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি রুপি। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এটিকে সম্ভবত অন্যতম বড় লোকসানের নজির হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছবিটির আয়ের চিত্রও ছিল বেশ অসম। কর্ণাটকে ৭৩ কোটি ৫০ লাখ, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় ২৯ কোটি, তামিলনাড়ুতে ১১ কোটি ৫০ লাখ এবং কেরালায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ রুপি আয় করেছে সিনেমাটি। হিন্দি বলয় থেকে এসেছে ১৪৯ কোটি রুপি। সব মিলিয়ে ভারতে ‘টক্সিক’-এর আয় ২৬৬ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। বিদেশের বাজারে ৪৮ লাখ মার্কিন ডলার যোগ করে বিশ্বব্যাপী ছবিটির মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩১২ কোটি ৫০ লাখ রুপি।
মুক্তির আগে যশের তারকাখ্যাতি, বড় বাজেট এবং প্রথম দিনের দুর্দান্ত ব্যবসা ঘিরে ‘টক্সিক’ নিয়ে প্রত্যাশার পারদ ছিল তুঙ্গে। কিন্তু দর্শকের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত বড় অঙ্কের লোকসানের মুখেই পড়ল সিনেমাটি। এর মাধ্যমে মুদ্রার উল্টো পিঠও দেখলেন এ অভিনেতা।





