সম্প্রতি নেপাল-চীন সীমান্ত অঞ্চলে একটি বিশাল হিমবাহ ধসে ভয়াবহ কাদা ও পাথরের পাহাড়ি ঢল এবং আকস্মিক বন্যা আঘাত হেনেছে। এতে উভয় সীমান্তে শত শত মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডির কয়েক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও, স্বজনহারা পরিবারগুলো এখনো তাদের প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার বা তাদের বেঁচে থাকার অলৌকিক আশায় দিন গুনছে।
বন্যার পর থেকে নেপাল অংশে ৫,১৩০ জন এবং চীন অংশে বহু বিদেশী নাগরিক সহ ৫১৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া দুই দেশ মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১,৪00-এর বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান কৈলাশ পর্বতে যাত্রা এবং বিভিন্ন আধ্যাত্মিক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাওয়া বহু আন্তর্জাতিক তীর্থযাত্রী এই বিপর্যয়ের কবলে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ভারতের ৩৩ বছর বয়সী পরামর্শক আরুষি গুপ্তা এবং ইউক্রেনীয় তীর্থযাত্রী দলসহ অনেকেই রয়েছেন, যাদের শেষ অবস্থান ছিল জিরোং পোর্ট (Gyirong Port) সীমান্ত চেকপয়েন্ট।
স্বজনদের খোঁজে পরিবারগুলো ভারত, নেপাল, চীন, ইউক্রেন ও নরওয়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, দূতাবাস এবং পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছে। যোগাযোগের জন্য তারা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গঠন করা থেকে শুরু করে নিখোঁজদের সনাক্তকরণে ডিএনএ নমুনা পর্যন্ত জমা দিয়েছে। অনেকেই প্রিয়জনদের আইফোন, অ্যাপল ওয়াচ বা এয়ারপডসের শেষ জিপিএস লোকেশন ট্র্যাক করে তাদের সন্ধানের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে নদীর তীর কিংবা হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্টের টানেল থেকে অলৌকিকভাবে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করার ঘটনা পরিবারগুলোকে আশা টিকিয়ে রাখতে প্রেরণা যোগাচ্ছে।
তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ২২ লাখ টন কাদা ও ধ্বংসাবশেষ জমে থাকার কারণে উদ্ধার অভিযান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নেপাল ও চীন কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে নিখোঁজদের খোঁজে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সাম্প্রতিক তথ্যের অভাব পরিবারগুলোর উদ্বেগ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, শোকাকুল স্বজনরা এখনো ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকেন অন্তত একটি বার্তার আশায়। তারা বিশ্বাস করতে চান, কোনো উঁচু নিরাপদ স্থানে তাদের প্রিয়জনেরা এখনো কোনোমতে বেঁচে আছেন এবং অলৌকিক কিছু একটা ঘটবে।





