দেশের বাজারে ইলিশের সংকট ও চড়া দামের মধ্যে ভারত থেকে আমদানি করা শত শত টন ইলিশে সয়লাব বাজার। গত দুই মাসে ৪২৭ টন ইলিশের চালান দেশে এসেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ আমদানির প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানা গেছে। সরবরাহ কম থাকায় বর্তমানে বাজারে ১ কেজি বা তার বেশি ওজনের পদ্মার ইলিশ প্রতি কেজি আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ঘাটতি পূরণে ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে তুলনামূলক কম দামে ইলিশ আমদানি করছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে আমদানি করা এসব ইলিশে পদ্মার ইলিশের সেই স্বাদ-গন্ধ নেই। বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, আমদানীকৃত ইলিশের প্রতি কেজির শুল্কায়ন মূল্য ধরা হয়েছে ২ মার্কিন ডলার, যা প্রায় ২৫০ টাকা। এতে প্রতি কেজিতে সরকারের রাজস্ব হচ্ছে প্রায় ১৬২ টাকা। ৪২৭ টন ইলিশ থেকে আমদানি শুল্ক বাবদ প্রায় ৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এসব চালানের বড় অংশ ভারতের গুজরাট ও ভরুচ বন্দর থেকে সংগ্রহ করছেন। এ ছাড়া মুম্বাই এবং পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া, ডায়মন্ড হারবার ও কোলাঘাট থেকেও মাঝারি আকারের ইলিশ আমদানি করা হচ্ছে। বেনাপোল সততা ফিশের আমদানিকারক রেজা খোকন বলেন, রুই, কাতলা, আইড়সহ বিভিন্ন ধরনের মাছ আমদানির পাশাপাশি এ বছরই প্রথম ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করা হচ্ছে। কলকাতার মাছ রপ্তানিকারক ইব্রাহিম খান বলেন, গুজরাটের ইলিশ দেখতে উজ্জ্বল হলেও পদ্মার মিঠাপানির ইলিশের মতো স্বাদযুক্ত নয়। তবে স্থানীয় বাজারে পদ্মার ইলিশের অতিরিক্ত দামের কারণে তুলনামূলক কম দামের এ মাছের চাহিদা তৈরি হয়েছে।
প্রতি বছর দুর্গাপূজার মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হলেও এবার চিত্র ভিন্ন। গত বছর বাংলাদেশ সরকার ভারতে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিলেও চড়া দামের কারণে ভারতীয় আমদানিকারকরা মাত্র ১৪৩ দশমিক ৮০ টন ইলিশ আমদানি করেছিলেন। এর আগের দুই বছরও আমদানির পরিমাণ ছিল ৬০০ টনের নিচে। এবারও কলকাতার ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ভারত বর্তমানে বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানি করলেও এই মাছ দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বজায় থাকা প্রয়োজন





