দেশকে অস্থিতিশীল করতে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নেতাদের প্ররোচনামূলক বই বিভিন্ন দোকান, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং এমনকি ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত বইমেলাতেও ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে। যেসব বইয়ে নাশকতা, নিরপরাধ মানুষ হত্যা ও দেশকে অস্থিতিশীল করার মতো কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেওয়ার বক্তব্য রয়েছে।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের বইয়ের প্রকাশ ও প্রচার নিষিদ্ধ হলেও বাংলাদেশে এসব বইয়ের প্রচারণা ও বিক্রিতে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না। যদিও বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপির ইসলামী চিন্তাবিদদের সংগঠন এ ধরনের মতামত প্রচারকে কোনোভাবেই সমর্থন করে না।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সাবেক সদস্য সচিব এবং বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, এ ধরনের বই বিক্রি হয়ে থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। এসব বই সমাজ, রাষ্ট্র ও জাতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কোনোভাবেই এটিকে সমর্থন করা যায় না।
১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাসব্যাপী বইমেলা পরিদর্শনের সময় গণমাধ্যম আল-কায়েদার আদর্শিক নেতা আবদুল্লাহ ইউসুফ আজ্জাম, ওসামা বিন লাদেন, ভারতীয় উপমহাদেশে একিউআইএস ও আনসার আল-ইসলাম নামে পরিচিত সন্ত্রাসী সংগঠনের আরও কয়েকজন নেতা এবং তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের নেতাদের বই খুঁজে পেয়েছে।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব প্রাঙ্গণে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মেলায় অন্তত ১০টি প্রকাশনীর স্টলে এসব বই বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাবাজারের স্টেশনারি দোকান এবং রকমারি, বাতিঘর, ওয়াফিলাইফ, কিতাবঘর, রুহামাশপ, হালালপণ্য, নাফিউন, খিদমাহশপ, মামুনবুকস ও বইটইয়ের মতো অনলাইন শপেও এসব বই ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেও কিছু প্রকাশনা এসব বইয়ের প্রচারণা চালাচ্ছে।
এক লেখক একটি বইয়ে উল্লেখ করেছেন, আল-কায়েদার মতো গোষ্ঠীগুলো তাদের নাশকতামূলক কৌশল প্রয়োগ করে এবং বিচারক, থানা, মহাসড়ক ও তেলের পাইপলাইনে হামলা চালিয়ে অর্থনীতি ধ্বংস করে, যাতে সরকারি সেবা ব্যাহত হয়, জনগণ ক্ষুব্ধ থাকে এবং কর্তৃপক্ষ ভীত থাকে। লেখক ইসলামকে ব্যবহার করে পাঠককে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করেন।
অন্য একটি বইয়ের লেখক দাবি করেছেন, কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার জন্য নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে হত্যা করা ন্যায়সংগত। এই বক্তব্য পাঠকদের বিভিন্ন দেশে সর্বোচ্চ ক্ষতিসাধন, সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং এরপর জনগণের কাছে উদ্ধারকারী হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আহ্বান জানায়।
আরেকটি বইয়ে লেখক আন্তর্জাতিক সংঘাত উসকে দেওয়ার জন্য মিথ্যা গণহত্যার প্রচারণা চালানোকে যুক্তিসংগত বলে বর্ণনা করেছেন। লেখকদের একজন আবদুল্লাহ আজ্জাম ছিলেন লাদেনের ভাবগুরু। তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত সংগঠন আল-কায়েদা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেছিলেন।
নব্বইয়ের দশকের শেষের পর এই সংগঠনের হামলায় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ নিহত হয়। ঢাকার বাজারে বিক্রি হওয়া বইগুলোতে স্পষ্টভাবে এসব হত্যাকাণ্ডের সমর্থন করা হয়েছে।
অন্যান্য লেখকদের মধ্যে রয়েছেন লাদেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আয়মান আল-জাওয়াহিরি, যার দলগুলো কেনিয়া ও তানজানিয়ায় শত শত মানুষকে হত্যা করেছিল। লাদেন ও আজ্জাম উভয়েই ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক স্থানে হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেছিলেন।
ঢাকার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বইমেলায় অন্তত ১০ জন সন্ত্রাসী নেতার বই বাংলায় অনুবাদ করে তুলে ধরা হয়েছে। তাছাড়া, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযুক্ত এবং বাংলাদেশে প্রকাশ্যে আল-কায়েদাকে সমর্থন করার জন্য পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব বইয়ের প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রকাশকরাও বইয়ের বিক্রি বাড়াতে এসব ‘ইনফ্লুয়েন্সার’-এর উদ্ধৃতি দিচ্ছেন।
[নোট: চরমপন্থী প্রচারণা ও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়া এড়াতে নির্দিষ্ট বইয়ের নাম ও টেক্সট থেকে সরাসরি উদ্ধৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকা হয়েছে]
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী বলেন, আমাদের কাছে আগে এই তথ্য ছিল না। আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বই পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। আমরা উন্মুক্ত দরপত্র পরিচালনা করি। ইসলামিক আলেম-ওলামারা যদি বলেন বইগুলো আল-কায়েদার, তবে আমরা ব্যবস্থা নেব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শফি মো. মোস্তফা গণমাধ্যমকে বলেন, উগ্রবাদ মোকাবিলায় সরকারকে একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ ও কাঠামো তৈরি করতে হবে। বর্তমানে এই সমস্যার সমাধানে সরকারের এখনো উপযুক্ত নীতির অভাব রয়েছে।
প্রকাশক কারা?
প্রকাশকদের মধ্যে কয়েকটি হলো রুহামা, সিয়ন, সন্দীপন, সমকালীন, আর-রিহাব, শব্দতরু, চেতনা, ইলমওয়েব, ইলমহাউস ও খান পাবলিকেশন্স।
সিয়ন প্রকাশ করেছে সামিউল হক হাক্কানির একটি বই, যিনি ‘তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে পরিচিত এবং যার ছাত্ররা পরবর্তীতে আল-কায়েদার নেতা হয়েছিলেন।
১০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার অনলাইন ও অফলাইনে উগ্রবাদীদের কঠোর নজরদারিতে রাখছে। সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সিয়নের মালিক আহমেদ রফিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন লোকজনকে নজরদারিতে রাখা শুরু করেছিলেন, তখন জনগণ তাকে নজরদারিতে রেখেছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও যদি একই কাজ করেন, তবে জনগণও সরকারকেই নজরদারিতে রাখবে।
তিনি আরও লেখেন, আওয়ামী লীগ ভারতে পালিয়েছে; আপনারা কোথায় যাবেন? বঙ্গোপসাগর ছাড়া আপনাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা থাকবে না। কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে দুবার ভাবুন।
আর-রিহাবের কাছে লাদেন, জাওয়াহিরি, আসিম উমর, দাদুল্লাহ, ইউসুফ আল-আইরি, আবু উসামা, আসিম আল-বারকাউই, আহমদ ফারুক এবং অন্যান্য আল-কায়েদা নেতার বই রয়েছে।
শব্দতরু ও ইলমওয়েবের কাছে শেখ খালিদ আর-রশিদ, শেখ আবু হামজা, শেখ আহমেদ মুসা জিবরিল এবং আসিমসহ আল-কায়েদা নেতাদের বই রয়েছে।
রুহামা পাবলিকেশন্স :
রুহামা পাবলিকেশন্সের কাছে আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা খালিদ আল-হুসাইনানের ছয়টি বই রয়েছে। এর মালিক রফিকুল ইসলাম ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বইমেলা আয়োজন কমিটিরও একজন সদস্য।
মেলায় বইগুলো প্রদর্শনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শুধু আমরাই তো এটা করছি না; আরও অনেকেই করেছে।”
তিনি আরও বলেন, বইগুলো অনেক আগের। “আমরা এগুলো বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রকাশ করেছিলাম। লেখকদের ব্যাপারে বিষয়গুলো সামনে আসার পর আমাদের পক্ষ থেকে আর কোনো বই প্রকাশ করা হয়নি।”
বাতিঘরও এই প্রকাশনী থেকে আল-কায়েদার এই নেতার লেখা পাঁচটি বই বিক্রি করে।
আর-রিহাব :
আর-রিহাবের কাছে একিউআইএসের নেতা ফারুকের স্ত্রীর একটি বই রয়েছে, যে সংগঠনের উদ্দেশ্য ভারত, মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে যুদ্ধ পরিচালনা করা।
অন্যান্য অনেক বইয়ের মতো এটিও অনুবাদ, সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন আরিফ মাহমুদ, যিনি বইটি নিষিদ্ধ সংগঠন আনসার আল-ইসলামের নেতা জসিমউদ্দিন রহমানীকে উৎসর্গ করেছেন।
৫ জুলাই আর-রিহাব পাবলিকেশন্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ থেকে আসিম উমরের বইয়ের প্রচ্ছদ পোস্ট করে ক্যাপশন দেওয়া হয়, “রহমানী সাহেব যে বইটির জোর সুপারিশ করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ। দ্রুত আপনার কপিটি সংগ্রহ করুন।”
আগের পোস্টগুলোতে প্রকাশক আসিফ আদনান ও হারুন ইজহারকে এসব বইয়ের প্রশংসাকারী ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
আর-রিহাবের মালিক হাবিবুর রহমানকে ২০২১ সালে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট গ্রেপ্তার করেছিল।
এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি বলেন, তাঁর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এমন কোনো বই প্রকাশ করেনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইগুলোর প্রচারের প্রমাণ দেখানো হলে তিনি বলেন, “এগুলো কি এখন প্রচার করা হচ্ছে? এগুলো তো গত বইমেলার আগে প্রচার করা হয়েছিল। এখন বইগুলো আর প্রচারও করা হয় না, স্টকেও রাখা হয় না। প্রশাসনিক কিছু সমস্যা আছে। এ কারণে আগে যেসব বই বিক্রি করতাম, সেগুলো আমি সরিয়ে ফেলেছি।”
ছদ্মনামে লেখা কয়েকটি বইয়ের লেখক ও অনুবাদকদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তাঁদের আসল নাম আমি জানি না। তাঁদের ফোন নম্বরও আমার কাছে নেই। তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইগুলো জমা দিয়েছিলেন, আর আমি সেগুলো প্রকাশ করেছি। প্রকাশনার খরচও তাঁরাই বহন করেছিলেন।”
শব্দতরু :
২০১৯ সালে কার্যক্রম শুরু করা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শব্দতরু শেখ খালিদ আর-রশিদের চারটি বই প্রকাশ করেছে। বইগুলো রকমারি ডটকমে বিক্রি হচ্ছে।
২০০৫ সালে সৌদি আরবে শেখ খালিদ আর-রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একটি সন্ত্রাসী সংগঠনে অর্থায়নের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং তাঁকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের একটি কারাগারে ওই সাজা ভোগ করছেন।
শব্দতরু আল-কায়েদার নেতা শেখ আবু হামজার একটি বইও অনুবাদ ও প্রকাশ করেছে। আবু হামজা বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। বইটিতে সালিম আবদুল্লাহকে অনুবাদক এবং রুহামাশপ, ওয়াফিলাইফ ও রকমারি ডটকমকে অনলাইন পরিবেশক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শব্দতরুর মালিক হাসান জামিলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খান পাবলিকেশন্স :
বইমেলায় বাংলাবাজারভিত্তিক খান পাবলিকেশন্সের স্টলে আল-কায়েদার আরব উপদ্বীপ শাখা (একিউএপি)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে বিবেচিত আনোয়ার আল-আওলাকির তিনটি বই রয়েছে।
খান পাবলিকেশন্সের মালিক মুহাম্মদ ইসহাক খান। ২০১৮ সালের জানুয়ারি ও জুলাই মাসে নারায়ণগঞ্জ ও সিংগাইরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। ২০২১ সালে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
লিখিত এক বার্তায় তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় আনোয়ার আল-আওলাকি কোনো সংগঠনের প্রকাশ্য সদস্য ছিলেন না। সেই সময়ের তাঁর আলোচনা অনুবাদ করে কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা নিছক অপবাদ।”
ইসহাক খান ব্যক্তিগতভাবে আল-কায়েদাকে সমর্থন করেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনি যে সংগঠনের নাম বললেন, সে নামে কোনো সংগঠন সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। তাই তাদের সমর্থন করি কি না—এই প্রশ্নই প্রাসঙ্গিক নয়।”
একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা এই গণমাধ্যমকে বলেন, খান পাবলিকেশন্সের মাধ্যমে উগ্রবাদী বই প্রকাশ ও বিতরণের অভিযোগে ২০১৮ সালে ইসহাককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
সে সময় তৎকালীন র্যাব-৩-এর সিপিসি-৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিনা রানী গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, “ইসহাক আনসার আল-ইসলামের ‘আধ্যাত্মিক নেতা’ হিসেবে পরিচিত মুহাম্মদ জসিমউদ্দিন রহমানীর ছাত্র ছিলেন। তাঁর ভাই আশরাফ খানও আনসার আল-ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। আরেক ভাই রাকিব হিযবুত তাহরীরের সদস্য এবং তখন (২০১৮ সালে) কারাগারে ছিলেন।”
র্যাবের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইসহাক ‘খান পাবলিকেশন্স’ ও ‘মকবুল পাবলিকেশন্স’ নামে দুটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ ধরনের বিভিন্ন বই প্রকাশ করতেন এবং সেগুলো দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় সরবরাহ করতেন।
রকমারি ডটকম :
২০১২ সালে যাত্রা শুরু করা দেশের অন্যতম পরিচিত অনলাইন বই বিক্রির সাইট রকমারি ডটকমের ওয়েবসাইটে আল-কায়েদার নেতাদের প্রশংসাসূচক পরিচিতি প্রকাশ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁদের মধ্যে আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা খালিদ আল-হুসাইনানও রয়েছেন। অনলাইন এই বইয়ের দোকানে তাঁর আটটি বই বিক্রির জন্য রয়েছে এবং বর্তমানে এসব বইয়ের অগ্রিম অর্ডারও নেওয়া হচ্ছে।
লেখকের পরিচিতিতে ব্যবহৃত ভাষার সঙ্গে আল-কায়েদার প্রকাশিত বিভিন্ন বিবৃতির ভাষারও মিল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
রকমারির মার্কেটিং বিভাগের প্রধান মাহমুদুল হাসান সাদী বলেন, “বই বিক্রির বিষয়ে সরকারের কোনো নির্দেশনা নেই। নীতিমালা না থাকায় কিছু বই নিয়ে আমাদের প্রায়ই বিতর্কের মুখে পড়তে হয়।”
তাঁর মতে, কোন বই প্রকাশ করা হবে, সে সিদ্ধান্ত প্রকাশকদেরই নেওয়া উচিত। সাদী আরও বলেন, “আল-কায়েদার নেতাদের বই বিপণনের কোনো দায় রকমারি নেবে না।”
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, “সমাজের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়, মানুষের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করে বা দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে—এমন কোনো প্রকাশনার বিরুদ্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার যদি তা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এসব বিষয় সমাজের সামনে তুলে ধরতে হবে।”
সূত্র : ঢাকা স্ট্রিম।





