‘গোটা দেশটাকেই উড়িয়ে দেব নাকি? দিলে কখন দেব?’ ইরান প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে নিশ্চিহ্ন করা, দেশটিকে অর্থনৈতিক চাপে রাখা কিংবা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর মধ্যে যেকোনো একটি পথ বেছে নিতে পারেন তিনি।
এর আগে শনিবার নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্যাম্প ডেভিড থেকে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন ট্রাম্প। এরপর থেকেই ইরান নিয়ে তার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুডে’ আছেন তিনি। একই সঙ্গে বলেন, ‘অদূর ভবিষ্যতেই অনেক বড় কিছু ঘটতে চলেছে।’
ইরানকে নিয়ে এর আগেও এমন কঠোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। দেশটিতে বোমা হামলা চালিয়ে তাকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। এপ্রিলে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আজ রাতে একটা গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।’
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের মধ্যেই ইরানের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আঘাত করার পাশাপাশি দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদেরও লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের কালিবাফ বলেছেন, শত্রুদের মোকাবিলায় ইরানকে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি কূটনীতির মাধ্যমে অর্জনগুলো ধরে রাখার চেষ্টাও করতে হবে।
এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তার বৈঠক হতে পারে। যুদ্ধের অবসান নিয়ে এর আগে আলোচনার একাধিক চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোতেও পড়ছে। ১৯ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। এর আগে চলতি মাসে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হুথিরা নতুন করে সামরিক সাফল্য পায়।
লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানিও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রেও পড়ছে। দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৬ দশমিক ৫০ ডলারের ওপরে উঠেছে, যা নতুন রেকর্ড। নিয়মিত পেট্রলের দামও প্রতি গ্যালনে ৪ দশমিক ৪৭ ডলারে পৌঁছেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাবে, ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় হয়েছে অন্তত ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ব্যবহৃত বোমা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রসহ অস্ত্রের মজুত পূরণে পেন্টাগনের ব্যয় হয়েছে ২৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ের এই হিসাবেও মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর অবকাঠামো মেরামতের খরচ ধরা হয়নি। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুতেও ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ।
এখন ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। একদিকে ইরান নতুন হামলার আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে ট্রাম্প বলছেন, শিগগিরই ‘অনেক বড় কিছু’ ঘটতে পারে।
সূত্র: ইউএসএ টুডে





