ফরেনসিক পরীক্ষায় সাড়া নেই রিজওয়ানের

জাতীয় সাইবার অপরাধ দমন সংস্থার নজরদারিতে রয়েছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হক। তবে এই দুই ক্রিকেটার তদন্ত প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ অবলম্বন করছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ইমাম-উল-হক তদন্ত কর্মকর্তাদের সাথে সহযোগিতা করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান এই প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের সহায়তা করছেন না।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইমাম-উল-হক ও রিজওয়ানকে নিয়ে বেশ কিছু নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পাকিস্তানের স্থানীয় সাংবাদিক কাদির খাজার বরাত দিয়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই তথ্যগুলো শেয়ার করা হয়েছে। পোস্টগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ায় এই দুই ক্রিকেটারের মোবাইল ফোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইমাম-উল-হক এখন জাতীয় সাইবার অপরাধ দমন সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে সহযোগিতা করছেন।তার মোবাইল ফোনগুলোর ফরেনসিক বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইংল্যান্ড বনাম পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ চলাকালীন এই ক্রিকেটাররা অবৈধ বাজি ধরার কার্যক্রমের সাথে জড়িত ছিলেন।

ইংল্যান্ডের কাছে দুটি বড় ব্যবধানে হারের পর টেস্ট স্কোয়াড থেকে সাতজন ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে পিসিবি সবাইকে অবাক করে দিয়েছিল। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের বাকি ম্যাচটির আগে বোর্ড রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হকসহ সাতজন ক্রিকেটারকে বাদ দেয়। এছাড়া প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং তার সহকারী উমর গুলকেও টেস্ট দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, বাজে পারফরম্যান্সের কারণেই তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে পাকিস্তানের স্থানীয় গণমাধ্যম দাবি করতে শুরু করে, বাদ দেওয়ার কারণ কেবল মাঠের পারফরম্যান্স ছিল না। বরং মাঠের বাইরের কোনো গুরুতর ঘটনার প্রভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ক্রিকেট বোর্ডের একজন মুখপাত্রও জানিয়েছিলেন, তাদের কয়েকজন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে।

খেলোয়াড়দের বাদ দেওয়ার পর পিসিবির অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা আকিব জাভেদ এক সাক্ষাৎকারে জানান, তারা অবশ্যই ইমাম-উল-হককে তদন্তের আওতায় আনবেন। এই ওপেনারের বিরুদ্ধে চোটের অজুহাতে দ্বিতীয় টেস্টের উভয় ইনিংসেই ব্যাটিং না করার অভিযোগ উঠেছে। তবে তার চোটের ধরনটি অনেকের কাছেই সন্দেহজনক মনে হয়েছিল।মোহাম্মদ রিজওয়ান আইনি সুরক্ষার চেষ্টা করেছিলেন

অন্যদিকে তদন্ত প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করা মোহাম্মদ রিজওয়ান বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। এর আগে জানা গিয়েছিল, এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার জন্য পিসিবির কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু পিসিবি তার সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। সুরক্ষার আশায় রিজওয়ান লাহোর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছেও অনুরোধ জানান। তবে তার কোনো প্রচেষ্টাই তাকে স্বস্তি দিতে পারেনি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হলেও মোহাম্মদ রিজওয়ান একাধিকবার তাতে সাড়া দেননি। তার সাথে আবারও যোগাযোগ করা হবে এবং হাজির হতে ব্যর্থ হলে তিনি আনুষ্ঠানিক নোটিশের মুখে পড়তে পারেন। প্রয়োজনীয় ‘ফেস আইডি’ যাচাইকরণের জন্য রিজওয়ানের কাছে একজন কর্মকর্তা পাঠানোর প্রস্তাবও দিয়েছে এনসিসিআইএ। এখন দেখার বিষয়, রিজওয়ান পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেন এবং পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী আসে।