গান্ডারি ‘লিপিস্টিক সুন্দরী’ ও ‘চায়না লাল সুন্দরী’সহ বিভিন্ন জাতের আখ চাষে সুদিন ফিরছে যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালি গ্রামের শতাধিক কৃষকের। পথের ধারে বসছে আখের বেচাকেনা। আখ চাষে লাভ বেশি হওয়ায় বাড়ছে চাষ। লাভবান হচ্ছে চাষি ও ব্যবসায়ীরা। দেশে যখন কমছে আখ চাষ এ সময় বেনাপোলে বেড়েছে আখের চাষ।
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল, পুটখালি, বাগআঁচড়া, গোগা ও ডিহিসহ সীমান্ত এলাকাজুড়ে ধান, পাট, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন সবজি চাষে ছিল সুখ্যাতি। তবে অন্য ফসলে লাভ হয় কম। অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় দিন দিন যশোরের বেনাপোলে বেড়েছে মিষ্টি আখের চাষ। চলতি মৌসুমে যশোরের শার্শা উপজেলায় প্রায় ৪৭ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে বেনাপোলের পুটখালী এলাকায় ব্যাপকভাবে হচ্ছে আখ চাষ। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার মিষ্টি আখ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
একদিকে সীমান্ত, অন্যদিকে সবুজ মাঠ। এরই মাঝে সারি সারি মিষ্টি আখ। বেনাপোলের পুটখালীতে এখন আখের বাগান ঘিরেই ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। এর মধ্যে পুটখালী এলাকায় রয়েছে আখের বড় একটি অংশ। অল্প খরচে অধিক লাভ পাওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে এই ফসলের আবাদ। এক বিঘা জমিতে আখ চাষে খরচ হয় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে সেখান থেকে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন কৃষকেরা। ফলে কম খরচে বেশি লাভের আশায় আখ চাষে ঝুঁকছেন অনেকে।
শুধু পুটখালী গ্রামেই শতাধিক কৃষক এখন আখ চাষের সঙ্গে যুক্ত। আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবেও বিভিন্ন স্বল্প জীবনকালীন ফসল চাষ করছেন কৃষকেরা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাস্তার ওপর ভ্যানে করেও বিক্রি হচ্ছে আখ। এ অঞ্চলের মানুষ ভ্যানে মেশিন বসিয়ে আখের রস তৈরি করে বিক্রি করছেন। আবার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বাগানে এসে আখ কেটে খাচ্ছেন।
পুটখালীর আখ মিষ্টি ও নরম হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বাগেরহাট, সিলেট, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এসে এখানকার বাগান থেকে আখ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
শিক্ষিত বেকার যুবক তৌহিদুর রহমান বলেন, চাকরির পেছনে না ঘুরে উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা থেকে মাত্র পাঁচ কাঠা জমিতে আখ চাষ শুরু করেছিলাম। বর্তমানে আমার দুই বিঘা জমিতে আখ রয়েছে। আখ বিক্রির লাভের টাকা দিয়ে চলছে পরিবার ও সন্তানদের ভরণপোষণ।
আখ ব্যবসায়ী আব্দুস শুকুর বলেন, আমি নাভারন থেকে এসেছি আখ কিনতে। খোলা বাজারে আখ বিক্রিতে বেশি লাভ হওয়ায় এখান থেকে আখ নিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্ন এলাকা থেকে ও সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম পুটখালি আসছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। লাভবান হচ্ছেন তারাও।
আখ চাষি আরমান হোসেনসহ স্থানীয়রা জানান, আখ চাষে লাভ দেখে এখন এ অঞ্চলের অনেক কৃষকই নতুন করে আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে একদিকে কৃষকের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে পুটখালীতে তৈরি হচ্ছে আখ চাষের নতুন সম্ভাবনা।
মাঠের ফসল থেকে এখন বদলাচ্ছে পুটখালীর অনেক কৃষকের জীবন। অল্প খরচে অধিক লাভ আর বাজারে চাহিদা থাকায় বাড়ছে মিষ্টি আখের আবাদ। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে পুটখালীর নরম মিস্টি আখ।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, গান্ডারী ইশ্বরদী ও এসআর ১৬ এবং লিপিস্টিক জাতের আখের চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। আখ চাষে অধিক লাভ হওয়ায় বাড়ছে চাষ। লাভবান হচ্ছে কৃষকেরা ঝুকছেন চাষে। চলতি বছরে প্রায় ৪৭ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী কৃষকেরা আখ চাষে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। আমরা আশাবাদী, সামনের বছর আরও বেশি জমিতে আখ চাষ সম্প্রসারণ হবে।





