অভিমানে ভারত যাওয়ার চেষ্টা, কুড়িগ্রামে পাবনার তিন স্কুলছাত্রী উদ্ধার

স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে যাওয়ার পথে পাবনার তিন স্কুলছাত্রীকে কুড়িগ্রাম থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উদ্ধারের পর তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়া তিন কিশোরীর মধ্যে একজন অষ্টম শ্রেণির এবং দুজন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা পাবনা সদর উপজেলার চর আশুতোষপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী ও পরস্পরের বান্ধবী।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে তিনজন বাড়ি থেকে বের হয়। তবে স্কুলে না গিয়ে অটোরিকশায় অনন্ত মোড় ও পরে পাবনা বাস টার্মিনালে যায়। সেখান থেকে নাটোর ও রংপুর হয়ে বাসে কুড়িগ্রাম পৌঁছায় তারা। সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও কুড়িগ্রামে গিয়ে তারা পথ হারিয়ে ফেলে।

কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালে নেমে রাত কাটানোর জন্য জায়গা খুঁজতে গিয়ে তারা একটি অপরিচিত মহল্লায় চলে যায়। সেখানে তাদের ঘোরাঘুরি ও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে কুড়িগ্রাম সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাজউদ্দিন আহম্মেদের স্ত্রী কৌশলে কিশোরীদের নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। তিনি তাদের খাবার ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করে বিষয়টি স্বামীকে জানান। পরে এসআই তাজউদ্দিন আহম্মেদ কৌশলে তাদের কাছ থেকে পরিবারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে পাবনা সদর থানায় যোগাযোগ করেন। এদিকে মেয়েরা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের পক্ষ থেকে পাবনা সদর থানায় পৃথক তিনটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, জিডির পর পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। কুড়িগ্রাম সদর থানা-পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া এক কিশোরী দীর্ঘদিন ধরে নিজের শারীরিক রূপ ও চোখের সমস্যা নিয়ে পরিবারে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের শিকার হয়ে ক্ষুব্ধ ও অভিমানী ছিল। এছাড়া টিকটক ও দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল ‘বিটিএস’-এর প্রতি তাদের বিশেষ আগ্রহ ছিল। অভিমান ও অনলাইন কনটেন্টের প্রভাবে ওই কিশোরী বিদেশে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে অপর দুই বান্ধবীও তার সঙ্গে যোগ দেয়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তাদের একজন প্রায় এক লাখ টাকা সঙ্গে নিয়েছিল।

মেয়েদের ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে এক কিশোরীর বাবা বলেন, ‘ওরা ছোট মানুষ, না বুঝে বড় ভুল করে ফেলেছিল। সন্তানদের সহিহ সালামতে ফিরে পেয়েছি, এটাই শুকরিয়া।’

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া তিন কিশোরী বর্তমানে নিজ নিজ পরিবারের কাছে নিরাপদে রয়েছে।